শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ১০ মিনিট আগে

শাবল দিয়ে কুপিয়ে পিতাকে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক,নরসিংদী

শাবল দিয়ে কুপিয়ে পিতাকে খুন

নরসিংদীতে ছেলের হাতে পিতা খুনI প্রতীকী ছবি

নরসিংদীতে পাষণ্ড ছেলের হাতে ফজলুল করিম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে শহরের চৌয়ালা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলুল করীম চৌয়ালা এলাকার লাল মাহমুদের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাসুম মিয়াকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত নিহত ফজলুল করিম চৌয়ালা মার্কেটে মুদি মালের ব্যবসা করে আসছেন। আর তা দিয়েই তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার সংসার চলতো। গত প্রায় ৬ বছর আগে নিহতের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মারা গেলে তিনি আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী নিয়ে ভালোভাবেই চলছিলো তার সংসার। কিন্তু তাতে বাধা দেয় নিহতের ছেলে মাসুম মিয়া। মাসুম চাইতেন তার বাবা ফজলুর করিম যেন তার সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন। কিন্তু ফজলুর করিম তা করতে চাননি। এ নিয়ে মাসুম প্রায়ই তার সৎ মায়ের ওপর নির্যাতন করতেন। এ কারণে ফজলুল করিম তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে প্রায় ৭ মাস তার বাবার বাড়িতে রাখেন। পরবর্তীতে মাসুম কিছুটা শান্ত হলে তিনি তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিছুদিন না যেতেই মাসুম আবার তার সৎ মায়ের ওপর অত্যাচার শুরু করেন। এ নিয়ে পিতার সাথে গত প্রায় দেড় বছর আগে বাগবিতণ্ডা হলে মাসুম তার পিতার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় ফজলুল করিমের বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আসলে ফজলুল করিম তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সেখানে বেশ কিছুদিন থাকার পরে পরিবারের অনুরোধে তিনি তার ছেলেকে জেল থেকে বের করে আনেন। জেল থেকে বের হয়ে মাসুম আবার আগের রূপ ধারণ করেন। প্রায়ই তার সৎ মায়ের সাথে ঝগড়া করতেন। ঝগড়ার সময় মাসুম বেশ কয়েকবার বাবাকে খুন করার হুমকি দেন।

পরবর্তীতে গত প্রায় পনের দিন আগে ফজলুর করিমের শ্বশুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে যান। তখন থেকে তিনি সেখানেই থাকতেন। কিন্তু ফোনে সব সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ফজলুল করিমের স্ত্রী স্বপ্না তার সৎ ছেলে মাসুমের ভয়ে তাকে প্রায়ই বলতেন, 'আমি যখন বাড়িতে নেই আপনি বাড়িতে থাকবেন না। আপনি দোকানে বা অন্য কোথাও থাকেন।' ফজলুর করিমও এমনই করতেন। কিন্তু তার মেয়ের জামাই বিদেশ থেকে আসার কথা ছিল আজ শুক্রবার দুপুরে। তাই তিনি মেয়ের জামাইকে আনতে যাবার জন্য তৈরি হতে সকালে বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে অটোতে উঠবেন ঠিক তখনই ছেলে মাসুম পেছন থেকে শাবল দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই মাসুম পলাতক।
 
নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, আমি বিয়ের পর থেকে এক দিনের জন্যও মাসুমের জন্য শান্তিতে সংসার করতে পারেনি। সে সব সময়ই সম্পদের জন্য আমার স্বামীকে চাপে রাখতো। কিন্তু সে নেশাগ্রস্থ। তাকে সম্পদ বাটোয়ারা করে দিলে সে তা নষ্ট করে ফেলবে। তাই আমার স্বামী তাকে সম্পদ বাটোয়ারা করে দিতে চাইতো না। সম্পদের লোভে পড়েই মাসুম আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য