তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের ১১ বছর আজ

সংগৃহীত ছবি

তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের ১১ বছর আজ

অনলাইন ডেস্ক

সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১১ বছর আজ। ওই অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ১১২ জন। আহত হন আরও তিন শতাধিক শ্রমিক। সে দিনের ভয়াল স্মৃতি মনে করে এখনো আঁতকে ওঠেন অনেকেই।

সেই পোড়া গন্ধ এখনো ভুলতে পারেনি শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, ১১ বছরেও হতাহত শ্রমিকরা পায়নি পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসা। এ ছাড়া সরকার ও বিজিএমইএর কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী মেলেনি প্রাপ্তি।

তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১২ জন শ্রমিক মারা যান।

আর আহত প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কারখানাটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন, দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ভয়াবহ ওই ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় সাক্ষী ১০৪ জন। আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১১ জন।  

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। ১ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ দিন ধার্য ছিল। সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।  

২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একেএম মহসিনুজ্জামান খান তাজরীন ফ্যাশনসের এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঘটনার এক বছর ২৮ দিন পর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রতিষ্ঠানটির লোডার শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম লাভলু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন ও প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহীদুজ্জামান দুলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু, নিরাপত্তারক্ষী রানা ওরফে আনারুল।  

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়