কক্সবাজারে ট্রেনযাত্রা: ট্যুরিস্টদের নিরাপদ ভ্রমণে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থাপনায় ‌‘কক্স-কার’

সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে ট্রেনযাত্রা: ট্যুরিস্টদের নিরাপদ ভ্রমণে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থাপনায় ‌‘কক্স-কার’

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আগ্রহে কক্সবাজারকে সাজানো হয়েছে উন্নয়নের সোপান হিসাবে। পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) থেকে ঢাকার সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ শুরু হচ্ছে। ট্রেনে করে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।  

প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যমান যানবাহনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে হয়রানিমুক্ত পর্যটন সেবা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নতুন করে ‘কক্স-কার’ নামের একটি সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে।

এমন কথা জানান কক্স-ক্যারের উদ্যোক্তা কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন। ইতোপূর্বে তিনি পর্যটন নগরীতে নিরাপদ ও পর্যটন-বান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ার লক্ষ্যে যানবাহন চালকদের স্মার্ট ডাটাবেইজ ‘কক্স-ক্যাব’ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে জাতীয় পর্যায়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ পুরস্কার’ এ ভূষিত হয়েছেন। সেই কক্স-ক্যাবের ওয়েবসাইটের সম্প্রসারিত সার্ভিস হবে ‘কক্স-কার’। ‘কক্স-কার’ হবে অনেকটা উবারের বিকল্প সার্ভিস।
ইতোমধ্যে সাইট ডেভেলপ সম্পন্ন করেছে এবং গাড়ি ও চালকদের তথ্য সংগ্রহ প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

যেহেতু ঢাকা থেকে প্রথম ট্রেন আজ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন ভোর ৬টায় কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেন যাত্রীদের হোটেল পর্যন্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতে ‘কক্স-কার’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন। কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা ট্রেনে বসেই কক্স-ক্যাবের ওয়েবসাইট ভিজিট করে নির্দিষ্ট রেইটে প্রয়োজনীয় গাড়ি বুকিং করতে পারবেন। ফলে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটকরা তাদের অগ্রিম বুকিং দেওয়া গাড়িতে করেই নিরাপদে হোটেলে পৌঁছাতে পারবেন নির্দিষ্ট ভাড়ায়। একইভাবে চালকরা ভাড়া নিশ্চিত হয়েই রেলওয়ে স্টেশনে যাবেন। ভাড়ার আশায় স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না কোনো চালককে।  

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কক্স কার’ সার্ভিসটি অনেকটা উবারের বিকল্প হিসেবে আমরা চিন্তা করেছি। ‘কক্স-ক্যাব’ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই একজন পর্যটক চালকদের পরিচয় ও মোবাইল নাম্বার, গাড়ির ছবি, গাড়ির মডেল, সিট ক্যাপাসিটি, ভাড়ার পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পেয়ে যাবেন। গাড়ি বুকিং করলে দেখবেন চালকের ছবিও। পর্যটকদের সংখ্যা অনুপাতে গাড়ির আসন সংখ্যা বিবেচনা করে সামর্থ্য অনুযায়ী গাড়ি পছন্দ করতে পারবেন। এই নির্ধারিত ভাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে শহরের যেকোনো হোটেলের জন্য প্রয়োজ্য। কক্স-ক্যাবের ওয়েবসাইটে (www.coxscab.com) ওয়ান-স্টপ ট্যুরিস্ট সার্ভিসে রয়েছে হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট এর তালিকা এবং কক্সবাজার শহরের খ্যাতিমান রেস্টুরেন্টের তালিকাও। রয়েছে পর্যটন নগরীর প্রধান বাহন ইজিবাইক টমটমের পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা।  

ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ১ ডিসেম্বর ট্রেনের সাথে সমন্বয় করেই কক্স কার সার্ভিস চালু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ওয়েবসাইট নানা তথ্য ইনক্লুড করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০টি বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন আমাদের কক্স-কারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পর্যটকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার হার বিবেচনা করে আমরা আরও গাড়ির এবং চালকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরিধি বাড়াবো।

পর্যটন নগরীতে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রাফিক পুলিশের এ গুরুত্বপূর্ণ ইনোভেশন অনেক কার্যকর হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

news24bd.tv/আইএএম

পাঠকপ্রিয়