কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর লজ্জাবোধ

প্রতীকী ছবি

কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর লজ্জাবোধ

 মুফতি আবদুল্লাহ নুর

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্তঃপুরবাসিনী কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোনো জিনিস অপছন্দ করতেন আমরা তাঁর চেহারায় তা বুঝতে পারতাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১০৪)

হাদিস গবেষকরা বলেন, যেসব মেয়ে ঘরে অবস্থান করে এবং মানুষের সঙ্গে সহজে মেশে না, তাদের ভেতর তীব্র লজ্জাবোধ কাজ করে। তারা তাদের পছন্দ ও অপছন্দের কথা মুখ খুলে বলতে সংকোচ করে।

লজ্জা, শালীনতা, ভদ্রতা ও ব্যক্তিত্ববোধের কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের কথা মুখে বলতে সংকোচ করতেন; এমনকি তিনি মনে মনে কষ্ট অনুভব করলেও মুখে তা প্রকাশ করতেন না। এ জন্য মহান আল্লাহ সাহাবিদের সতর্ক করে বলেন, ‘তোমাদের আহ্বান করলে তোমরা (ঘরে) প্রবেশ করো এবং খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেয়ো; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পোড়ো না। কেননা তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, সে তোমাদের উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না।

’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৩)

দ্বিনের ব্যাপারে মহানবী (সা.) কোনো সংকোচ বোধ করতেন না। তিনি দ্বিন ও শরিয়তের লঙ্ঘন দেখলে ক্রোধান্বিত হতেন। এমনকি রাগে তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত। যেমন এক ইহুদির সঙ্গে এক আনসার সাহাবি মুসা (আ.) ও নবীজি (সা.)-এর মর্যাদা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত হলে তিনি রাগান্বিত হন এবং তাঁর চেহারায় তা প্রকাশ পায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪১৪)

আলোচ্য হাদিস দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয় যে তীব্র লজ্জাবোধ শুধু নারীর বৈশিষ্ট্য নয়, তা ব্যক্তিত্ববান পুরুষেরও বৈশিষ্ট্য। তবে নারীর লজ্জাবোধ পুরুষের তুলনায় প্রবলতর। হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা আরো বলেন, ‘লজ্জার প্রকৃতি হলো তা মানুষের ভেতর এমন নৈতিকতা তৈরি করে, যা মানুষকে নোংরা বিষয় বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মানুষের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে বিরত রাখে। আবুল কাসেম জুনাইদ (রহ.) বলেন, ‘লজ্জা হলো আল্লাহর নিয়ামত লক্ষ্য করা এবং সেই সঙ্গে (তাঁর কৃতজ্ঞতায়) ত্রুটি লক্ষ্য করা। এই দুয়ের মাঝে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাকেই লজ্জা বলা হয়। ’ (রিয়াজুস সালিহিন)

লেখক : আলেম ও গবেষক

এই রকম আরও টপিক