বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে ওরা ৬ জন !

প্রতীকী ছবি

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে ওরা ৬ জন !

অনলাইন ডেস্ক

বুদ্ধিজিীবী  হত্যায়  মুল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ৬ জন। এমন তথ্য মার্কিন গোপন দলিলপত্র, বিবিসি বাংলা, ও কয়েকটি গবেষণায় পাওয়া গেছে। এই ৬ জনের মধ্যে  পাকিস্তানের ২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন  ও দেশের দুইজন মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।  
পাকিস্তানের দুজন হচ্ছেন  রাও ফরমান আলী ও আবদুল লতিফ বাওয়ানি।

বাংলাদেশের হচ্ছেন  চৌধুরী মুঈনুদ্দীন  ও আশরাফুজ্জামান খান। যুক্তরাষ্ট্রের হচ্ছেন  হেইট ও ডুসপিক।
এই ৬ জন ছাড়াও পরিকল্পনায় সহায়তাকারী হিসেবে ছিলেন দেশি বিদেশি অনেকে।  

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর  দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল নকশা রাও ফরমান আলী করেছেন বলে ধরে নেয়া হয়।
ঢাকার পতনের পর গভর্ণর হাউজ, যেটি এখন বঙ্গভবন নামে পরিচিত, সেখান থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা রাও ফরমান আলীর একটি ডায়রি পাওয়া যায়। সেখানে অনেক নিহত ও নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীর নাম লেখা।  
মুনতাসীর মামুন ও মহিউদ্দিন আহমেদ যৌথভাবে একটি বই লেখেন, নাম, 'সেই সব পাকিস্তানী'। এই বইতে রাও ফরমান আলীর একটি সাক্ষাতকার রয়েছে ।  
সেখানে রাও ফরমান আলী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও জানা যায়, ঢাকার পতনের পর গভর্ণর হাউজ, যেটি এখন বঙ্গভবন নামে পরিচিত, সেখান থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা রাও ফরমান আলীর একটি ডায়রি পাওয়া যায়।  
সেখানে অনেক নিহত ও নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীর নাম লেখা। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ বাওয়ানির বাসা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পর কিছু নথি পাওয়া যায়, যাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর নির্দেশনা পাওয়া যায়।  
তবে জেনারেল নিয়াজী বলেন, 'বুদ্ধিজীবীরা আমার কাছে কোন তাৎপর্যের অধিকারী ছিলেন না। আমার ছিল অস্ত্রধারী দুশমনদের নিয়েই মাথাব্যথা। তবে আলতাফ গওহর এ কথা উল্লেখ করেছেন যে, কেউ একজন আমাকে জানায় যে, ফরমানের কাছে বুদ্ধিজীবীর একটা তালিকা রয়েছে। আমি সেটার সত্যতা যাচাইয়ের করার জন্য কোন একজনকে পাঠাই আর তার অনুরোধে রাও ফরমান ঐ তালিকা থেকে দুটি নাম কেটে বাদ দেন। আমি বিষয়টা জানতাম না। আমি এটি আলতাফ গওহরের কাছ থেকে জেনেছি। ' 
আরেকজন রাও ফরমান আলীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনিও পাকিস্তানী। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার এ আর সিদ্দিকী একাত্তরে আন্তঃ বাহিনী জনসংযোগ দফতরের পরিচালক ছিলেন। তিনি বলেন, 'আমার ধারণা রাও ফরমান আলীই সেই ব্যক্তি। কেননা ফরমান সেই ব্যক্তি যার উপর কর্তৃপক্ষের আস্থা ছিল সবচেয়ে বেশী। ফরমানই পারত নিঝুম নীরবতাকে প্রচণ্ড শক্তিশালী, সরব করে তুলতে। ফরমান হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আপনার বক্তব্য শুনবেন, যার চেহারায় ধরে রাখা আছে একটা বৈদগ্ধ্যের ছাপ'।  
রাও ফরমান আলী নিজেই এই তালিকার কথা স্বীকার করে এটাও জানাচ্ছেন যে তালিকাভুক্তরা ছিল পাকিস্তান বিরোধী। যদিও তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা কৌশলে অস্বীকার করছেন, তবে এটার সাথে যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেটা নিশ্চিন্তে বলা যায়।  
বাংলাপিডিয়াতে বলা আছে, পাকবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর সার্বিক নির্দেশনায় নীলনকশা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার বশির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হেজাজী, মেজর জহুর, মেজর আসলাম, ক্যাপ্টেন নাসির ও ক্যাপ্টেন কাইউম। ফরমানের এই ছোট কথোপকথনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দালালদের কথা, যারা তার কাছে এসে অভিযোগ জানাত। দালাল বলতে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামসকে বুঝানো হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আলবদর ছিল আক্ষরিক অর্থেই ডেথ স্কোয়াড।  
দেশীয় দালালদের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন দুজন। বিদেশে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি  চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান। তারা এখন বিদেশে রয়েছেন। তবে বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ফেরত আনার চেষ্টা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে তাদের ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে। চৌধুরী মাইনুদ্দিন আছেন যুক্তরাজ্যে, আশরাফ আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। রোববার (১০ ডিসেম্বর) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনকূটনীতি অনুবিভাগ মহাপরিচালক সেহেলী সাবরীন।  
এছাড়া, মার্কিন গোপন দলিলে দুটি নাম পাওয়া যায়।  হেইট ও ডুসপিক। হেইট মার্কিন সেনাবাহিনীতে চাকরি করত এবং পরবর্তীতে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করে। অন্যদিকে ডুসপিক ছিল সিআইএ'র এজেন্ট এবং এই দুজন রাও ফরমান আলীর সাথে মিলে প্রায় তিন হাজার বুদ্ধিজীবীর একটা তালিকা তৈরি করে।  

news24bd.tv/ডিডি
 

সম্পর্কিত খবর