সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০১ ঘণ্টা ০৩ মিনিট আগে

মাঠে সোনালী ধান, বাড়িতে নবান্নের উৎসব

রিপন হোসেন, যশোর

মাঠে সোনালী ধান, বাড়িতে নবান্নের উৎসব

হেমন্ত মানেই হিম হিম কুয়াশা। আর এই কুয়াশার চাদর ভেদ করে উকি দিচ্ছে সকালের সোনারোদ। শিশিরের ভারে হেলে পড়ছে ধানের শিষ। সাথে সাথে কৃষকের স্বপ্নও ঝিলিক দিচ্ছে। হেমন্তেন মৃদু বাতাসে দোলা খাচ্ছে ফসলের মাঠ। ধানের শিষের সাথে কৃষকের মনও দোলা খাচ্ছে। চোখে আনন্দের ছাপ। গোলায় উঠবে নতুন ধান। তাই ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণি। ক’দিন পরেই পুরো গ্রাম জুড়ে নতুন চালের পিঠার ঘ্রাণে আমোদিত হবে চারদিক।

তবে কিছু কৃষকের কপালে কষ্টের ছাপও রয়েছে। যারা ধার-দেনা করে স্বপ্নের ফসল ফলিয়েছে। তাদের যে ফসল গোলায় ভরা হবে না। দিতে হবে মহাজনকে। আবার ফসল ফলাতে হবে। সে স্বপ্ন নিয়েই কৃষক মাঠে ফলায় সোনার ফসল। রোদ্র, বৃষ্টি, ঝড় মাথায় নিয়ে এগিয়ে যায় তারা। তবে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। আবার অনেক বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তবুও কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। যা চোখে পড়ার মতো।
   
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক এমদাদ হোসেন জানান, এবছর  যশোর জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর তা কাটার উৎসব চলছে মাঠে মাঠে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। এতে খুশি কৃষক। তবে দাম নিয়ে চিন্তায় আছেন তারা। কৃষকদের দাবি হঠাৎ করে যেন ধানের দাম না কমে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে যশোরের  ৮ উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ধান উৎপাদনের দিক থেকে এবারও মনিরামপুর উপজেলা শীর্ষ স্থানে রয়েছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি ধান আবাদ হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ। অন্যান্য উপজেলাতেও  অধিক জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। 

যশোর সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামের কৃষক ফঁচিয়ার রহমান বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে ছিলাম। এবছর ধানের দাম ভালো থাকায় আশা করছি লাভ হবে। প্রতিবছর ধানের দাম এমন থাকলে আমাদের সমস্যা হয় না। তবে ধান উঠার সময় প্রতিবছর দাম কমে যায়। সে কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ধান উঠার সময় দাম কম হয়ে যায়। তখন কৃষকরা অভাব অনাটনে থাকে। সেকারণে বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করতে হয়। এর ফলে মধ্যেস্তভুগিরা লাভবান হয়। প্রকৃত কৃষকের ক্ষতি হয়। সরকার যেন এর দিকে নজর দেয়।

বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেল বাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামে ধান কাটা শেষ হলে উৎসব শুরু হয়। নতুন ধানের পিঠা বানাতে মেতে ওঠে সব বয়সি মানুষ। এ এলাকার রসের পিঠা জামাই বাড়ি নিতে ভুল করে না গৃহবধুরা। ফাঁকা মাঠে বিভিন্ন গ্রামীণ খেলার আয়োজন করা হয়। তবে এখন আগেকার দিনের মতো হয় না। নিত্যপনের দাম বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের উৎসবও কমতে শুরু করেছে।

গ্রামীণ উৎসবের সাথে মিল রেখে শহরেও গ্রামীণ খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে সেসব উৎসবে প্রাণ থাকে না বলে অভিযোগ আয়োজকদের।


NEWS24▐ কামরুল

মন্তব্য