আদালতের রায় সুপার লিগের পক্ষে 

সংগৃহীত ছবি

আদালতের রায় সুপার লিগের পক্ষে 

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পারেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ইউরোপের কুলীন ক্লাবগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট, তা আয়োজনে বাঁধা অনেকাংশেই কেটে গেল।

২০২১ সালের এপ্রিলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বিকল্প হিসেবে ১২টি ক্লাব মিলে ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ঘোষণা দেয়। তবে এমন সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসে ফিফা ও উয়েফা।

এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার হুমকি পর্যন্ত দেয় তারা। এরপর  অক্টোবরে উয়েফা ও ফিফার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় সুপার লিগ প্রকল্পের প্রচারকারী কোম্পানি এ২২ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট।  

সেই মামলার রায়ে আজ ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনে বাধা দিতে উয়েফা ও ফিফা যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইন ভঙ্গ করেছ। রায় ঘোষণার সময় বলা হয়েছে, ‘যেকোনো আন্তঃক্লাব ফুটবল প্রকল্প, যেমন সুপার লিগ অনুমতি সাপেক্ষে এগিয়ে যেতে পারে।

ফিফা ও উয়েফা সেই প্রতিযোগিতায় কোনো ক্লাব ও খেলোয়াড় অংশ নিলে নিষিদ্ধের যে নিয়ম তৈরি করেছে, তা বেআইনি। এর মাধ্যমে ফুটবলের বাজারে প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার করা হয়েছে। ’

যদিও রায়ের সময় আদালত এও জানিয়েছেন, এই রায়ের অর্থ এই নয় যে, সুপার লিগ প্রকল্প এখন চাইলেই এগিয়ে নেওয়া যাবে।

তবে রায় ঘোষণার পর  এ২২ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বার্নড রাইচার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমরা জিতেছি। আমাদের অধিকার আদায় করতে পেরেছি। উয়েফার একচেটিয়া আধিপত্য শেষ। ফুটবল এখন স্বাধীন। ’

আজ রায়ের পর নিজেদের ওয়েবসাইটে আলাদা বিবৃতি দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। পেরেজ বলেছেন, ‘আদালতের আজকের সিদ্ধান্তটি ঐতিহাসিক ও বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ। এ রায়ের দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রথমত, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল আর একচেটিয়া থাকবে না। দ্বিতীয়ত, সব ক্লাবই এখন থেকে নিজেদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ’

লাপোর্তা তার সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘বার্সেলোনা মনে করে এই রায়ের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বে একচেটিয়া ক্ষমতা নিরোধ করে ইউরোপে একটি নতুন অভিজাত প্রতিযোগিতার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ’

এদিকে, উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের রায় তাদের বিরুদ্ধে গেলেও সেটা সুপার লিগ আয়োজনের অনুমোদন বা বৈধতা দেয় না। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন মেনেই সবকিছু করেছে। নতুন নিয়মকেও স্বাগত জানিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে উয়েফা ও ফিফার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় এ২২ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু উয়েফা ও ফিফা ভেবে এসেছিল, আদালতের রায় তাদের পক্ষেই যাবে। উয়েফা ও ফিফা পাশে পায় ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ও ব্রিটিশ সরকারকেও। সুপার লিগ যাতে কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখতে না পারে, সে লক্ষ্যে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় ঋষি সুনাকের ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত সুপার লিগের পক্ষেই গেল।

news24bd.tv/SHS

এই রকম আরও টপিক

সম্পর্কিত খবর

পাঠকপ্রিয়