জান্তা সরকারের পতন ২০২৪ সালেই: মিয়ানমারের জনগণ

মিন অং হ্লাইয়িং

জান্তা সরকারের পতন ২০২৪ সালেই: মিয়ানমারের জনগণ

অনলাইন ডেস্ক

তিন বছর ধরে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত জান্তা সরকার। ২০২৩ সালটি মিয়ানমারের মানুষের জন্য ছিল সংঘাতপূর্ণ বছর। দেশটিতে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

একদিকে সংকটের মধ্যে কাটালেও জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের গতি বেগবান করেছে মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী।

২০২৪ সালের শুরুতে নিজেদের মনের ইচ্ছার কথা দ্য ইরাবতিকে জানিয়েছে মিয়ানমারের কিছু সাধারণ নাগরিক এবং স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারা। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী ভাবছেন তারা।

কারেনি রাজ্য থেকে মা থাজুর জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ব্যবসার দিক দিয়ে লাভবান হয়েছি। নতুন একটি বাড়ির কিনেছি।

কিন্তু বছরের শেষদিকে যুদ্ধাবস্থার অবনতি হলে, পালিয়ে বেড়িয়েছি বিভিন্ন শহরে। আমরা নিজের শহরে ফিরতে চাই। নিরাপত্তা ও শান্তি চাই।

দাউ মায়ো মাইও আয়ে মিয়ানমারের সলিডারিটি ট্রেড ইউনিয়ন থেকে জানিয়েছেন, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও আয় বাড়েনি তার। আয়ের সাথে ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। আমি আশা করি, ২০২৪ সাল সকল বৈষম্য দূর করে দেশের পরিস্থিতিকে শান্ত করবে।

ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা কো উইন মিন্ট ও জানান, অনেকেই দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুর এবং জাপানে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু যারা দেশে আছেন তারা জান্তা সরকার পতনে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করছে। আমরা আশা করছি, ২০২৪ সালে জান্তা সরকারের পতন হবে।

জাতীয় ঐক্য সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দুয়া লাশি লা জানান, আমাদের অনেক প্রচেষ্টা যেগুলো ২০২৩ সালে সফল হয়নি, সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কারণ ২০২৪ সালে আরও বেশি সামরিক চ্যালেঞ্জ আসবে। এগুলো মোকাবিলা করার মানসিকতা নিয়ে আমাদের উচিত নতুন বছর শুরু করা।

চিন ন্যাশনাল আর্মির মুখপাত্র সালাই হেতেত নি জানান, ২০২৩ সালে আমাদের সফলতা ও ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে জান্তা সরকারকে আমরা উৎখাত করতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, ২০২৪ সালেই একটি বেসামরিক সরকার আমরা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।

বিউটিফায়ার অফ ডাইভারসিটি নেটওয়ার্কের মুখপাত্র জুলিয়া জানান, ২০২৩ বছরটি কঠিন ছিলো। রান্নার তেলের দাম বৃদ্ধির মতো সমস্যা দিয়ে বছরটি শুরু হয়ে জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা করছি। চুরি-ডাকাতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছে। এর পেছনে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দায়ী। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। একজন বেসামরিক নাগরিক হিসাবে আমি সকল দ্বন্দ্বের অবসান চাচ্ছি। জান্তা সরকারকে পিছু হটতেই হবে।

ইয়াঙ্গুনের জান্তা বিরোধী জোটের কো নান লিন জানান, ২০২৩ সালে আমরা জান্তা সরকারে ব্যর্থতা প্রত্যক্ষ করেছি। মানুষের প্রতিবাদ জান্তা সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। আমার মনে হয় সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে যা ২০২৪ সালে আমাদের বিজয় অর্জনের কাছাকাছি নিয়ে যাবে। একনায়কতন্ত্রের অবসান হয়ে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হোক সেই আশা করছি।

news24bd.tv/SC

পাঠকপ্রিয়