১০ লাখ টাকা নিতে হাত-পা বেঁধে অচেতন করে দাদিকে হত্যা

১০ লাখ টাকা নিতে হাত-পা বেঁধে অচেতন করে দাদিকে হত্যা

সোহান আহমেদ কাকন, নেত্রকোনা

নেত্রকোনা শহরের নিউটাউন বিলপাড় এলাকায় নিজ ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধা জোছনা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার নাতিসহ তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসার আলমারিতে থাকা ১০ লাখ টাকা নিতে দুই কিশোর বন্ধুকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় ওই বৃদ্ধার নাতি।

গ্রেপ্তাররা হলো- নিহত জোছনা বেগমের বড় ছেলে ফারুখ হোসেন মিল্টনের ছেলে ও ছেলের দুই বন্ধু। তাদের সবার বয়স ১৫ বছর।

সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে শহরের নিউটাউন বিলপাড় এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে বৃদ্ধার নাতিসহ তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই জোছনা বেগমের ছোট ছেলে নাজমুল হাসান রুজেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পরে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, জোছনা বেগমের তিন ছেলের মধ্যে এক ছেলে বগুড়া, এক ছেলে বরিশাল থাকেন। বড় ছেলে মিল্টন মোল্লার সঙ্গে নিউটাউন বিলপাড়ের বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে মিল্টন ব্যক্তিগত কাজে বরিশাল যান। বৃদ্ধার নাতি স্কুলে পরীক্ষা না দেওয়ায় বাসা থেকে তাকে বের করে দেন তার বাবা ও মা। এরপর থেকে সে তার বন্ধু ও বিভিন্ন স্থানে থাকত।

কয়েকদিন ধরে তার মা ও বোন আটপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং বাবা বরিশাল যান। ফলে বাসায় একা ছিলেন জোছনা বেগম। বাসায় আলমারিতে ১০ লাখ টাকা আছে জানতে পারে জোছনা বেগমের নাতি। ওই টাকা নিতে তিন বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় হাসপাতাল থেকে চেতনানাশক ইনজেকশন সংগ্রহ করে ৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে বাসায় ঢোকে তারা। পরে তিন বন্ধু মিলে জোছনা বেগমের হাত, পা বেঁধে শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আলমারি থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু লকার ভাঙতে না পারায় আলমারিতে থাকা দুই হাজার টাকা নিয়ে কিছু সময় পর তারা পালিয়ে যায়। পরে শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় গিয়ে ইনজেকশন, সুচ ও হাতের গ্লোবস একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান আরও জানান, এর আগে নানা তথ্য বিশ্লেষণ ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে হত্যায় ওই বৃদ্ধার নাতি জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হয়।

রাত ৩টার দিকে তাঁর নাতিকে আটপাড়া থেকে তার মা ও বোনের সঙ্গে শহরের বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে বিস্তারিত জানায়। তাকে নিয়ে হত্যায় জড়িত থাকা অপর দুই বন্ধুকে তাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের দেখানো মতে পুকুর থেকে তুলে হত্যায় ব্যবহৃত ইনজেকশন, সুচ ও হাতের গ্লোবস জব্দ করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের  মঙ্গলবার নেত্রকোনা বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।

news24bd.tv/তৌহিদ

এই রকম আরও টপিক