খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেছেন 

হাসপাতাল থেকে বের করে আনা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে

খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেছেন 

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়  বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেছেন । এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

শায়রুল কবির খান বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক কাজ শেষে রিলিজ হন তিনি । এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন  বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ান হন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ফিরোজায় গেলে ঘনিষ্ঠজন তাকে বরণ করে নেন।

এদিকে বিকাল ৩টা থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের চারপাশে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভিড় সামলাতে হাসপাতালের ভেতরে সাংবাদিকসহ কাউকে প্রবেশ করতে দেননি পুলিশ।

এসময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ মুখরিত করেন তুলেন।

এর আগে গতকাল বুধবার খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বাসায় যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ দেয়। পাঁচ মাস  এভারকেয়ার হাসপাতালে  চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি এ হাসপাতালে ভর্তি হন ।

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার পরিবার থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও অনুমতি মেলেনি। এমন পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে এনে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস আক্রান্ত রক্তনালীতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আসা চিকিৎসকরা হলেন- ডা. হামিদ আহমেদ আব্দুর রব, ডা. ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ও ডা. জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন। তারা তিনজনই বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় জনস হপকিন্সের চিকিৎসক।

বর্তমানে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অনেকটা স্থিতিশীল, তাই তাকে বাসায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল বুধবারই জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে খালেদা জিয়াকে বাসায় নেওয়া হবে। মেডিকেল বোর্ড তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৭৮ বছর বয়সি এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিসহ নানা রোগে ভুগছেন। এরপর করোনায় আক্রান্ত হওয়াসহ বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। এরপর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে তাকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

news24bd.tv/ডিডি

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়