রোজার আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চার পরিকল্পনা

রমজানের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি-ফাইল ছবি

রোজার আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক

মার্চে পবিত্র রমজানের সময় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা ভাবছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে  এবার কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা৷ এ নিয়ে
ডয়েচে ভেলে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে গত সোমবার ( ১৫ জানুয়ারি) 
পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, দেশে কোনো সিন্ডিকেট থাকতে পারবে না। আমরা অর্থ,  খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ শুরু করেছি।

আশা করি, বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো। ”
কিন্তু ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বছরে পেঁয়জের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন । তার মধ্যে রোজায়  চাহিদা চার থেকে সাড়ে চার লাখ টন। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় ছয় থেকে সাত লাখ টন।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। রোজার আগে যদি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুলে নেয়, তাহলে রোজায় পেঁয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।
নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ । এটিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।  
এদিকে বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী চালের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি যে সামান্য কমে স্থিতিশীল হয়েছে তা কতটা ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে সংশয় আছে।  
গত দুই সপ্তাহে চালের দাম রকমভেদে দুই থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। ঢাকার বাজারেও  এক সপ্তাহ আগে আগে যে মোটা চালের কেজি ৫০-৫২ টাকা ছিল, তা এখন বিক্রি হ হচ্ছে ৫৪-৫৫ টাকায়। মাঝারি মানের চালের কেজি ৫৫-৫৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০-৬২ টাকা। আর মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু চাল ৬২-৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। কিছু  বিশেষ ধরনের সরু চাল অবশ্য বিক্রি হচ্ছে আরো বেশি দামে।
পরিকল্পনার দ্বিতীয়টি হলো, সরকার ছোলা আমদানিতে ভ্যাট কমিয়েছে। খেজুরের ব্যাপারে এলসি খুলতে পেরেছেন ব্যবসায়ীরা।  
তৃতীয় পরিকল্পনার ব্যাপারে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ডয়চে ভেলেকে বলেন, এবার জানুয়ারি মাসে এবং রোজার আগে এবং রোজার মাঝে আমরা ন্যায্যমূল্যে পাঁচটি ভোগ্যপণ্য দেবো এক কোটি পরিবারকে । আর আমরা আমদানীকারক, সরবরাহকারী সবার সঙ্গে এই সপ্তাহেই বসবো। আমাদের খাদ্য মজুত ঠিক আছে। কোনো সংকট নেই। ”
চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটা দেখে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবুও আমি খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি । আমরা এই সপ্তাহেই মিলার এবং হোল সেলারদের তিনি ডেকেছেন। আমিও থাকবো। ”
চতুর্থ পরিকল্পনা হচ্ছে,  ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, কোনো পণ্যের দাম বেশি নেয়া হলে জাতীয় তথ্য সেবা নাম্বার ৩৩৩-এ  অভিযোগ করা যাবে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এই সেবা চালু হবে। একই সময়ের মধ্যে  নতুন একটি ওয়েবসাইট খোলা হবে। সেখানে পণ্যের দাম, মজুতসহ বিভিন্ন তথ্য থাকবে বলে জানান তিনি।

news24bd.tv/ডিডি