প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝোলালেন কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা

সংগৃহীত ছবি

প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝোলালেন কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সিট সংকট সমস্যার সমাধান ও হলে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে হল অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছে হলের আবাসিক ছাত্রীরা। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৯টা থেকে হল অফিসের সামনে তারা এই অবস্থান নেয়। এ সময় তারা হলের আবাসিক শিক্ষক কার্যালয় ও প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে হলের সিট সংকট সমাধানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে।

সে সময় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সিট সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে সম্প্রতি ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর হলের মনোয়ারা ভবন থেকে ছাত্রীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করে হল প্রশাসন। হলের প্রধান ভবনের ছয়জনের রুমে সাতজন করে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে হলের আবাসিক ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত (রাত সোয়া ১০টা) শিক্ষার্থীরা হলের গেটের সামনে এসে অবস্থান নিয়েছে। হল প্রাধ্যক্ষ বা কোনো আবাসিক শিক্ষক এসে তাদের সঙ্গে এখনো কথা বলেনি বলে তারা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলনের সময় বলা হয়েছিল আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। অন্যত্র ছাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এখন আবার তারা ছয়জনের রুমে সাতজনকে সিট দিচ্ছে। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা সিট কেটে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমাদের সঙ্গে খুব বাজে ব্যবহার করেছে ম্যামরা।

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নুসরাত ইমরোজ বলেন, হলে সিট সংকট অনেক। রিডিং রুমে পড়ার জন্য জায়গা পাওয়া যায় না। আলাদা কোনো রান্নাঘর না থাকায় রুমেই আমাদের রান্না করতে হয়। রুমেই পড়াশোনা করতে হয়। এ জন্য আমরা কিছুদিন আগে দাবি তুলেছিলাম এক রুমে ছয়জনের বেশি থাকবে না। সেই দাবি তখন মেনে নিলেও এখন আবার শীতকালীন ছুটির সুযোগে প্রতিটি রুমে রুমে একজন করে ছাত্রীকে সিট দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য যখন আমরা হল প্রশাসনের কাছে সিটের বিষয়ে কথা বলতে এসেছি তখন তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। সিট কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন, মাত্র দুই মাস আগে আমায় সিঙ্গেল সিট দেওয়া হয়েছিল। এখন আমার সঙ্গে আবারো ডাবলিং করতে বলে অন্য এক ছাত্রীকে সিট দিয়েছে। এটা নিয়ে ম্যামদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা আমার গার্ডিয়ানকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেয়। সিট কেটে দেওয়ার হুমকি দেয়। উপাচার্য স্যারের নির্দেশ বলে আমায় ডাবলিং করে থাকতে বলে। না হলে সিট কেটে দেওয়ার হুমকি দেয় আমাকে।  

এখন তাদের দাবি কী এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা চাই হলের সিট সংকট সমাধান করুক। হলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুক। আমাদের সঙ্গে ম্যামদের খারাপ ব্যবহার বন্ধ হোক।

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ভূমিকম্পের পরে আমি নিজে হল পরিদর্শনে গিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে ছাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এর একটি সুন্দর সমাধান করা হবে।

news24bd.tv/আইএএম

এই রকম আরও টপিক