শীতের রোগ সিজনাল ইফেক্টিভ ডিস-অর্ডার

সংগৃহীত ছবি

শীতের রোগ সিজনাল ইফেক্টিভ ডিস-অর্ডার

নিউজ টোয়েন্টিফোর হেলথ

সিজনাল ইফেক্টিভ ডিস-অর্ডার (এসএডি) হলো বিষণ্নতার রোগ, যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণত শরতের শেষের দিকে বা শীতের সময় এই রোগ দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একে শীতকালীন বিষণ্নতা বা উইন্টার ব্লুজও বলা হয়। শীতের সময় প্রবীণ বা বৃদ্ধদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে।


এ বিষেয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. নুরুজ্জামান

উপসর্গ
সব সময় মন খারাপ থাকা বা অতিরিক্ত বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, খিদে বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, অলস বা উত্তেজিত বোধ করা, নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা বেশি করা, শর্করাজাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি, মনোযোগে ঘাটতি, দিনে অতিরিক্ত ঘুমানো, একাকী থাকার প্রবণতা, মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা করা, অতিরিক্ত ঘুমানো (হাইপারসোমনিয়া), ঘুমের সমস্যা (অনিদ্রা), সহিংস আচরণ ইত্যাদি।

চিকিৎসা ও করণীয়
♦ চাপমুক্ত পরিবেশে বসবাস করার চেষ্টা করুন।
♦ কখনো একাকী থাকবেন না। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান।


♦ ঘরে অবস্থানকালে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেতে দরজা ও জানালা খোলা রাখুন।
♦ আলোর সংস্পর্শে এলে মন-মেজাজ কিছুটা ঠিক থাকে। তাই যতটা সম্ভব দিনের বেলা ঘরের বাইরে বের হন।
♦ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না।
♦ নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন, অ্যারোবিক ব্যায়ামগুলো করুন।
♦ অল্প সময় ধরে খারাপ বোধ করা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক দিন মন খারাপ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
♦ সূর্যালোক, খাবার এবং অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ না পেলে দেহে ভিটামিন ‘ডি’র মাত্রা কম হতে পারে।
দেহে ভিটামিন ‘ডি’র মাত্রা কম কি না পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানুন। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে ত্বক ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করে। তাই প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মিনিট সূর্যালোক গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। কেননা, এই সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি লাইট থেরাপি।
♦ প্রয়োজনে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সিজনাল ইফেক্টিভ ডিস-অর্ডারের লক্ষণ ও উপসর্গগুলোকে অবহেলা করা যাবে না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে অন্যান্য বিষণ্নতার মতো এসএডি আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

news24bd.tv/health
 

পাঠকপ্রিয়