রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের জন্য জার্মানীকে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ

জার্মান সেনাবাহিনীর জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ার।

রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের জন্য জার্মানীকে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানীর সংঘাত বেধে যেতে পারে বলে মনে করছেন জার্মান সেনাবাহিনীর জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ার। আসন্ন সংঘাতের জন্য জার্মানীকে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, জার্মান সমাজের যুদ্ধ নিয়ে মানসিকতায় পরিবর্তন আসা জরুরি, এবং রাশিয়াকে মোকাবিলা করার জন্য জার্মানীর উচিত নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করা। খবর আরটি’র।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) জার্মানীর ওয়েল্ট অ্যাম সন্টাগ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ব্রুয়ার বলেন, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে জার্মানীর হাতে বেশি সময় বাকি নেই এবং স্নায়ু যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়ার দিক থেকে সামরিক ঝুঁকি বিশ্লেষন করার পর আমি বলতে পারি আমাদের হাতে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে আট বছর সময় আছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে।

জার্মান সেনাবাহিনীতে মহাপরিদর্শক হিসেবে কাজ করা ব্রুয়ারের মতে, এর মানে এই না যে যুদ্ধ হবেই, তবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

জার্মান নাগরিকদের জন্য সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার কথাও ভাবছেন ব্রুয়ার।

বিষয়টি জার্মান সরকার ভেবে দেখছে এবং সুইডেনের মতো নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের দিকে জার্মানী হাঁটতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্রুয়ারের আগে গত নভেম্বরে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জার্মানীর যুদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করা উচিত বলে জানিয়েছিলেন। জানুয়ারি মাসে বরিস আরও একবার জার্মানী এবং ন্যাটোর চাপিয়ে দেয়া যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে, গত মাসে বরিস ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর রাশিয়ান হামলার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: অর্থ না দেওয়া ন্যাটো সদস্যের ওপর রাশিয়ার হামলা চালানো উচিত: ট্রাম্প

এদিকে, গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস আগামী পাঁচ বছরে রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।

এছাড়া, গত মাসে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টবিয়াস বিলস্ট্রম তার দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন।

এসকল ভবিষ্যদ্বানীর কড়া জবাব দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ। তার মতে, ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে কাল্পনিক শত্রু উদ্ভাবন করছে।  

একই দিন জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ রাশিয়া বড় কোনো যুদ্ধ চায় না বলে মন্তব্য করেন।

একই ধরনের কথা বলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও। তিনি বারবার বলে আসছেন, ন্যাটোকে আক্রমণ করার মতো কোনো সামরিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ইচ্ছা রাশিয়ার নেই।

news24bd.tv/ab

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়