ডিমেনশিয়া রোগ বংশগত ? 

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন এক নার্স--ফাইল ছবি।

ডিমেনশিয়া রোগ বংশগত ? 

অনলাইন ডেস্ক

আমাদের মস্তিষ্ক আমরা যা ভাবি, অনুভব করি, মনে করি এবং করি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
এমন কিছু রোগ রয়েছে যা একজন ব্যক্তির মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দেয়। যখন একজন ব্যক্তির মধ্যে এই রোগগুলোর একটি থাকে, তখন তার চিন্তাভাবনা করতে, মনে রাখতে এবং কথা বলতে সমস্যা হতে পারে। তারা এমন কিছু বলতে অথবা করতে পারেন যা অন্যদের কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয়, এবং দৈনন্দিন জিনিসগুলো করা কঠিন বলে মনে করেন।

তারা ব্যক্তি হিসাবে যেমন ছিলেন সেরকম আছেন বলে মনে হয় না।
যখন এই সমস্যাগুলো সময়ের সাথে আরো খারাপ হতে থাকে, তখন ডাক্তাররা এগুলো বর্ণনা করার জন্য ডিমেনশিয়া শব্দটি ব্যবহার করে থাকতে পারেন।
ডিমেনশিয়া এমন কিছু নয় যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রত্যেকেরই হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন রোগের কারণে হয়।
এই রোগগুলো মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করে, তাই এগুলো বিভিন্ন উপায়ে লোকজনকে প্রভাবিত করে। সূত্র আলঝেইমার্স রিসার্চ, ইউকে।
যুক্তরাজ্যের এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে :
ডিমেনশিয়া কিভাবে কাউকে আক্রান্ত করে?
আমাদের বেশিরভাগই সময়ে সময়ে কিছু কিছু জিনিস ভুলে যাই, যেমন আমরা আমাদের চাবিগুলো কোথায় রেখেছিলাম। এর মানে এই নয় যে আমাদের ডিমেনশিয়া আছে। যখন কারও ডিমেনশিয়া হয়, তখন উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে ফলে তা দৈনন্দিন জীবন-যাপন চালিয়ে নেবার পথে এসে যায়।
যখন লোকজনের ডিমেনশিয়া হয়, তখন আপনি এগুলো কিছু ঘটতে দেখতে পারেন:
সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম এবং চেহারাগুলো ভুলে যাওয়া।
অল্প সময়ের মধ্যে প্রায়শই একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা।
জিনিসপত্র ভুল জায়গায় রাখা।
সঠিক শব্দ ব্যবহার করতে অথবা অন্য লোকের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
দিনের তারিখ অথবা সময় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া।

এদিকে দ্য ওয়াল প্রতিবেদন বলছে, চিনের ফুডান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা গত ১০ বছর ধরে ডিমেনশিয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। হাজার পাঁচেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর ব্রেন নিয়ে গবেষণা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন রক্তের প্লাজমায় ১৪৬৩টি প্রোটিন নিয়ে তার কাটাছেঁড়া করে চারটি প্রোটিন খুঁজে বের করা হয়েছে যারা ব্রেনের জটিল অসুখের জন্য দায়ী। এই চার প্রোটিন হল-- GFAP, NEFL, GDF15 এবং LTBP2। এদের মধ্যে আবার GFAP প্রোটিনের মাত্রার কমাবাড়ার উপর নির্ভর করে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আছে না নেই।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শারীরিক নানা কারণ আছে যার জন্য় মানুষ ভুলতে শুরু করে। যদি দেখা যায় ব্রেনে ছোট ছোট স্ট্রোক অনেকবার হয়েছে তাহলেও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়সকালে স্মৃতিনাশের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে। কমবয়সিরাও বিপদের বাইরে নন। ইদানীংকালে অ্যালঝাইমার্স, ডিমেনশিয়ার মতো অসুখ নিয়ে বিশ্বজুড়েই সচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে। প্রচণ্ড মানসিক চাপ, অ্যাংজাইটি, টেনশন বা মনোযোগের অভাবের কারণে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যদি খুব ঘন ঘন এই ভুলে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয় তখন সাবধান হতে হবে। কিছুক্ষণ আগে শোনা কথা ভুলতে শুরু করতে পারেন, কিছুদিন আগের ঘটনাও স্মৃতি থেকে বেমালুম উবে যেতে পারে। নামধাম তো বটেই, গুরুত্বপূর্ণ যে কোনও বিষয়ই যদি স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে তাহলে মুশকিল। একে বলে অ্যামনেশিয়া, যা ডিমেনশিয়ার পূর্ব লক্ষণ। চিনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, GFAP ও LTBP2 প্রোটিনের মাত্রা যদি হঠার করে রক্তে বেড়ে যায়, তাহলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডিমেনশিয়া কেন হয় তা এতদিন অজ্ঞাতই ছিল। রক্তের এই চার প্রোটিন সেই কারণ বের করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশ হবে কিনা তা আগে থেকে বোঝারও উপায় ছিল না এতদিন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, যখনই ছোট ছোট উপসর্গগুলো দেখা দেবে তখনই যদি রক্তের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে ডিমেনশিয়া হবে কিনা তার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। ৫২ হাজার ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর উপর পরীক্ষা করে এই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

news24bd.tv/ডিডি

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়