আবেদনের পরও অফিস থেকে মেলেনি ছুটি, অতঃপর সেই নারী শ্রমিকের মৃত্যু

আবেদনের পরও অফিস থেকে মেলেনি ছুটি, অতঃপর সেই নারী শ্রমিকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তালতলী এলাকায় একটি কারখানায় এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চান ছুটি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি ওই আবেদনে। পরে বিকেলে কারাখানা ছুটি হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে অসুস্থ সেই নারী শ্রমিক মারা যান।  

মৃত্যুবরণকারী ওই নারী শ্রমিকের নাম হাসিনা বেগম (৩৫)।

তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার দেবহাট এলাকার ভাসান আলীর মেয়ে। জয়দেবপুরের তালতলী এলাকায় তার কর্মস্থানের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের বিকেবাড়ী তালতলী এলাকায় সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এ সুইং শাখায় কাজ করতেন হাসিনা বেগম।

সোমবার দুপুরের দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে ছুটি চান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কারখানা ছুটি হলে তিনি বের হওয়ার সময় আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে তালতলী এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার অন্য শ্রমিকরা প্রতিবাদ করে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এ ব্যাপারে সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য কারখানায় যোগাযোগ করলে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। পরবর্তী সময়ে কারখানার কর্তৃপক্ষকে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইবরাহিম খলিল বলেন, কারখানার ভেতরে কাজ করার সময় এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারখানায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু ছুটি দেওয়া হয়নি। পরে কারখানার ছুটির পর তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেখানে মারা যান। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাফন-কাফনের জন্য ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে দেশের বাড়ি চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে দেশের বাড়ি চলে গেছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

news24bd.tv/SHS