বগুড়ার মেরিনা নদী বাংলা কমপ্লেক্সে আগুন, ক্ষতির পরিমাণ কত ?

বগুড়ার মেরিনা নদী বাংলা কমপ্লেক্সে আগুন, ক্ষতির পরিমাণ কত ?

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া শহরে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন মেরিনা নদী বাংলা কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই তলায় থাকা ২০টি ওষুধের দোকানের মধ্যে একটি দোকানের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং বাকি ১৯টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের কর্মীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি এই আগুনে তাদের কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তা তদন্ত সাপেক্ষে জানাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিএম ইমরুল কায়েস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভীন, সদর থানার ওসি তদন্ত শাহীনুজ্জামান, পৌর কাউন্সিলর লায়ন কবিরাজ তরুণ চক্রবর্তী সহ থানা-পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর একটার দিকে মেরিনা নদী বাংলা কমপ্লেক্সের ছয়তলায় হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়।

সে সময় মা‌র্কেটের ব্যবসায়ীরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। তখন তারা ৯৯৯ এ কল দেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আসে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ম‌ঞ্জিল হক বলেন, খবর পেয়ে আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে।  আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শাজাহানপুর কাহালু, গাবতলী ও শেরপুরের চারটি ইউনিট যুক্ত হয়। পরে দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। মূলত ৬ষ্ঠ তলায় ওষুধের ২০টি দোকান ছিল। অভি মেডিকেলের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেখানকার সকল মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া অন্য ১৯টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। '

তিনি আরও বলেন, 'দশতলার ছাদে ১০/১২জন ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছিল। তাদেরকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে এনেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন যেন দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে এবং বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল বলেই আমরা আট ইউনিট মিলে কাজ করেছি। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও কাজ করেছে। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে এবং কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্তের পর বলা যাবে। '

অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অভি মেডিকেলের মালিক সাইদুল ইসলাম জানান, তার গোডাউনে থাকা ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আশেপাশের দোকানের মালামাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। পরে ধোয়া ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। '

ক্ষতিগ্রস্ত অপর ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, 'ষষ্ঠতলার আগুনে আমাদের সব মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পাঠকপ্রিয়