কাতারের আমির আসছেন আজ, ১১ চুক্তি ও সমঝোতার প্রস্তুতি

শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের আমির আসছেন আজ, ১১ চুক্তি ও সমঝোতার প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি দুদিনের সফরে আজ সোমবার ঢাকা আসছেন।  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করবেন। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি কাতারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে এটিই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সফর।

বাংলাদেশে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সফরকে ‘বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ হিসেবে দেখছে সরকার।

দুই দশক পর কাতারের কোনো আমির বাংলাদেশ সফরে আসছেন।  

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের আমিরের বাংলাদেশ সফরে স্বাক্ষরের জন্য ছয়টি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বৈত কর পরিহার ও কর ফাঁকি, আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা, সাগরপথে পরিবহন, পারস্পরিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তর এবং যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠন সংক্রান্ত ছয়টি চুক্তি এ সফরেই সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এর পাশাপাশি শ্রমশক্তি, বন্দর পরিচালনা, উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্র এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা সংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

কাতার চাইলে বাংলাদেশের কোনো একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ ও কাতারের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। কাতার বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র। গত বছর মার্চ ও মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুবার কাতার সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের আমির বাংলাদেশ সফর করবেন।

সফরের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জ্বালানি, বিমান চলাচল, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।  

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টার দিকে বিশেষ ফ্লাইটযোগে কাতারের আমির ঢাকা পৌঁছবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিমানবন্দরে কাতারের আমিরকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাবেন। আমিরকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন তিনি। এরপর গণভবনে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাত্ এবং রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন আমির। সন্ধ্যায় তিনি বিশেষ বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন।  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ও কাতারের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুরের কালশী এলাকায় বালুর মাঠে নির্মিতব্য পার্ক ও মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে কালশী উড়াল সেতু পর্যন্ত সড়কটি আমিরের নামে নামকরণ করার কার্যক্রম চলছে। আগামীকাল বিকেল ৩টায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এই দুটি স্থাপনা উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

কাতারের আমিরের এই সফরের তাৎপর্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ সর্বোচ্চ গড় মাথাপিছু আয়ের দেশ কাতার শক্তিশালী অর্থনীতি, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে বিবেচিত। কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার, যেখানে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সার্বভৌম তহবিলের অধিকারী কাতার বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের উৎস হিসেবে বিবেচিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাতার বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্স। কাতারের আমিরের এই সফর বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।

কাতারের সঙ্গে বাকিতে তেল কেনার বিষয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এক বছরের বাকিতে তেল কেনার চুক্তি রয়েছে। কাতারের আমিরের সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।  

news24bd.tv/DHL

এই রকম আরও টপিক