চাবি বুঝিয়ে দেননি আগের কর্মকর্তা, বদলি হয়ে এসে বারান্দায় অফিস

চাবি বুঝিয়ে দেননি আগের কর্মকর্তা, বদলি হয়ে এসে বারান্দায় অফিস

রাজশাহী প্রতিনিধি

বদলি হয়ে এসেও অফিসে ঢুকতে পারছেন না রাজশাহীর পবা উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন। আগের কর্মকর্তা অফিস রুমের চাবি না বুঝিয়ে দেওয়ায় অফিসের বারান্দায় বেঞ্চে বসেই দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করেছেন।

ফাতেমা খাতুন জানিয়েছেন, যে কর্মকর্তার স্থলে তাকে পদায়ন করা হয়েছে ওই কর্মকর্তা তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তিনি অফিসে তালা দিয়ে রেখেছেন।

ফলে বাধ্য হয়ে অফিসের বারান্দাতে বেঞ্চে বসে দাপ্তরিক কাজ করছেন।

অফিসের স্টাফরা জানান, আগের কর্মকর্তা চাবি বুঝিয়ে না দেওয়ায় কর্মকর্তার রুম খুলতে পারছেন না তারা। তিনি চাবি বুঝিয়ে দিলে বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিলে রুম খুলে দেয়া সম্ভব।

প্রায় ছয় বছর ধরে পবায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন শিমুল বিল্লাহ সুলতানা।

গত ২৮ মার্চ শিমুল বিল্লাহকে নাটোর জেলার বড়াইগ্রামে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে বড়াইগ্রামের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনকে পবায় বদলি করা হয়। গত ৩ এপ্রিল আরেক প্রজ্ঞাপনে শিমুল বিল্লাহ সুলতানাকে বড়াইগ্রামে রেখেই হাবিবা খাতুনকে রাজশাহীর দুর্গাপুরে পদায়ন করা হয়। আর রাজশাহীর পবায় বদলি করা হয় দুর্গাপুরের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুনকে।

সমস্যা হচ্ছে, এমন আদেশর পর এখন এই তিন কর্মকর্তাই শহরের কাছে থাকা পবা উপজেলায় থাকতে চাচ্ছেন।

সোমবার সকালে পবা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মচারীদের দপ্তর খোলা থাকলেও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কক্ষটি তালাবদ্ধ। বাইরে বসে দাপ্তরিক কাজকর্ম করছেন সর্বশেষ বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন।

ফাতেমা খাতুন বলেন, সর্বশেষ আদেশে গত ৩ এপ্রিল তাকেই পবা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এরপর ৮ এপ্রিল তিনি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে যোগদান করেছেন। কিন্তু পবায় এসে দেখেন অফিসটি তালাবদ্ধ। বদলি হওয়া কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তাই গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অফিস তালাবদ্ধ থাকায় আজকে বাইরে থাকা বেঞ্চে বসেই কাজকর্ম শুরু করেছেন।

এদিকে হাবিবা সুলতানা জানিয়েছেন, পবা উপজেলার এই অফিসে বদলি হয়ে আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। কিন্তু দুর্গাপুরে তার বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়িও সেখানে। তাই ওইখানে তিনি কাজ করতে চান না। আর সেজন্যই তিনি পবার দায়িত্বটি এখনও ছাড়েননি। তিনি পবাতেই থাকতে চান।

এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি রাজশাহী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপরিচালক শবনম শিরিন।

news24bd.tv/FA

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়