ভারতে নির্বাচন ঘিরে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা বাড়ছে

একটি সমাবেশ থেকে এ আহ্বান

বিশ্বের কয়েকটি গণমাধ্যমের রিপোর্ট

ভারতে নির্বাচন ঘিরে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক

যতো সময় যাচ্ছে ততোই ভারতে লোকসভা নির্বাচন ঘিরে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা বাড়ছে । কারণ , গত ১৯ এপ্রিল নির্বাচন শুরুর পর একাধিক সমাবেশে ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন মোদি। একই সঙ্গে বিরোধী কংগ্রেসকে পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদীর বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী মিত্রদের অনেক নেতা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলমানকে কার্যকরভাবে বহিরাগত হিসেবে চিত্রিত করে চলেছেন।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা মুসলমান আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীরদের বিশেষভাবে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু মোদির বিজেপির পক্ষ থেকে ভারতীয় মুসলিমদেরই বারবার ‘ অনুপ্রবেশকারী’ বলা হচ্ছে।  
এসব কারণে মোদির সময়ে ধর্মীয় নিপীড়ন এবং ইসলামোফোবিয়া তীব্রভাবে বেড়েছে। চলমান নির্বাচনকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা আরো বাড়ছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।  
ওই খবরে বলা হয়েছে, অনেকের অভিযোগ বেকারত্বের মতো নীতিগত ইস্যু থেকে সরে প্রধানমন্ত্রী তার হিন্দু-জাতীয়তাবাদী পরিচয় আরো শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে আনছেন। যা নিয়ে ভারতের সংখ্যালঘুদের মধ্যে, বিশেষ করে ২৩ কোটি মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।  
‘দ্য স্যাফরন স্টর্ম: ফ্রম বাজপেয়ী টু মোদি’ বইয়ের লেখক সাবা নখভি সিএনএনকে বলেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধানের পাশাপাশি একজন প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। তিনি এমন কিছু করেছেন যা আমাদের সব প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আগে ঘটেনি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি ‘ধর্মীয় প্রার্থনার প্রথা’ তৈরি করেছেন।
বারানসীর এক দোকানদার আকাশ জসওয়াল সিএনএনকে বলেন, অনেকে মনে করেন মোদিই ঈশ্বর।  
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গুজরাটে যখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ঐ দাঙ্গায় ১ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছিল যাদের বেশির ভাগই মুসলিম ছিল। সমালোচকরা মোদিকে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সহিংসতার কয়েক মাস পরে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ জাতিকে গভীরভাবে বিভক্ত করেছে, যা আজও টিকে আছে।
মোদি কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন মর্যাদা বাতিল করেছিলেন—ফলে ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটি নয়াদিল্লির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
তিনি অযোধ্যায় ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরি করেছেন। যা অনেক মুসলমানের জন্য ১৯৯২ সালের রক্তপাতের বেদনাদায়ক স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেছে। সূত্র, কাউন্টার পাঞ্চ।
এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে মোদির হাতে ভারত আজ ধর্মীয় জাতিগতভাবে বিভক্ত। কিন্তু ভারত সবসময়ই অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে এসেছে। ভারত সাংবিধানিকভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যা মোদি ধ্বংস করতে যাচ্ছেন।  
কংগ্রেসের সমর্থকদের বড়ো অংশই মুসলিম।  

news24bd.tv/ডিডি