হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না: নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক

হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজায় কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হতে পারে না বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এই মন্তব্যে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের মূল অংশ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, যে প্রস্তাবটি ইসরায়েল নিজেই তৈরি করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন।

শুক্রবার বাইডেন জানান, ইসরায়েল একটি চুক্তির প্রস্তাব করেছে যার মধ্যে শুরুতে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বিরতির কথা বলা হয়েছে, এ সময় গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) প্রত্যাহার করা হবে এবং এর মধ্যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে কিছু জিম্মি বিনিময়ের বিষয়টিও রয়েছে, আর এ সময় দুই পক্ষ ‘শত্রুতার স্থায়ী অবসান’ নিয়ে আলোচনা করবে।

কিন্তু নেতানিয়াহুর শনিবারের বিবৃতি বলেছে, ‘হামাসের সামরিক ও পরিচালনার ক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার’ আগে ইসরায়েল একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে এমন ধারণা ‘সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই’।

শান্তি আলোচনা যখন চলছিল ইসরায়েল সব জিম্মির মুক্তি ও হামাসের ধ্বংস দাবি করছিল, অপরদিকে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দাবি করছিল; এসবের ফলে কয়েকমাস ধরে আলোচনা চললেও তা দুর্বলতা কাটাতে পারেনি।

বাইডেন যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব তুলে ধরেছেন হামাসও তাতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শুক্রবার তারা বলেছে, ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে’ এতে যুক্ত হওয়ার জন্য তারা তৈরি। কিন্তু কাতারের এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ মরাদাবি বলেছেন, তারা এখনও প্রস্তাবের বিস্তারিত হাতে পায়নি।

তিনি বলেছেন, “দখলদার সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার ও যুদ্ধবিরতি শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ”

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ভূখণ্ডে হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫২ জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই দেশটির সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজা সবদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ভয়াবহ হামলা শুরু করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৬৩৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক আর তাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।

news24bd.tv/DHL