প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া বেতনই আমার জন্য অনেক ছিল, দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে মাহাথির

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া বেতনই আমার জন্য অনেক ছিল, দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে মাহাথির

অনলাইন ডেস্ক

দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আল জাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আবারো নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহাথির।  

তিনি বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ থাকলে তা আদালতে পেশ করুন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেতন হিসেবে যে অর্থ আমি পেয়েছি, সেই অর্থই আমার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। তবে আমার সে অর্থের বেশির ভাগ শেষ হয়ে গেছে। ”

দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। এ জন্য একটি মানহানি মামলা করতে যাচ্ছেন মাহাথির।

মামলায় ৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (১৫ কোটি রিঙ্গিত) ক্ষতিপূরণ চাইবেন তিনি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম অভিযোগ মাহাথিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ও পরিবারকে সম্পদশালী করেছেন।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) মাহাথিরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

মাহাথির বলেন, “আমি ওই অর্থ দেখিনি। কোথায় আছে, তা-ও জানি না। আমি জানতে আগ্রহী। যদি আমি অর্থ নিয়ে থাকি, আদালতকে বলুন, কীভাবে আপনি (আনোয়ার ইব্রাহিম) তা জানতে পেরেছেন। ”

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে তিনি (আনোয়ার) তার কাছে ফাইল ও বাক্সভর্তি তথ্য থাকার কথা বলেছিলেন। যেগুলোয় আমার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ আছে। খুব ভালো, যদি থেকে থাকে তবে দেখান; যদিও এখন পর্যন্ত তিনি কিছু দেখাননি। এখন তিনি আমাকে ছেড়ে আমার সন্তানদের পেছনে লেগেছেন। ”

১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। তারপর তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে অবসরে যান। অবসর থেকে ফিরে নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলের হয়ে ২০১৮ সালে তিনি আবার নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

মাহাথির বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আমি সুইজারল্যান্ড যেতে চাই। ওই দেশের কোনও ব্যাংকের হিসাবে ‘আমার আত্মসাৎ করা অর্থ গচ্ছিত আছে’ বলে অভিযোগ উঠেছে। যদি এমন কোনও ব্যাংক হিসাব যদি খুঁজে পাওয়া যায়, তবে আমি সব অর্থ তুলে দেশবাসীকে দিয়ে দিব। ”

মাহাথির বলেন, ১৯৮১ সালে তিনি যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বেতন ছিল ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (৮ হাজার রিঙ্গিত) এবং ক্ষমতা ছাড়ার সময় ছিল ৪ হাজার ২৪০ ডলার (২০ হাজার রিঙ্গিত)।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পাওয়া বেতনই আমার জন্য অনেক বেশি অর্থ ছিল। আমাকে বাড়ি-চালকসহ গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। সরকার থেকে আমার বিদ্যুৎ-পানির বিল দেওয়া হতো। আমাকে কোনও কিছুর জন্য অর্থ খরচ করতে হতো না। এমনকি উড়োজাহাজভাড়াও দিতে হতো না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার থেকে সব সুবিধা পেতাম। ২৯ বছরের বেশি সময় ধরে তাই আমি বেতনের অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছি। ”

মাহাথির মোহাম্মদ আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর সরকার থেকে তাকে পুত্রাজায়ায় বিনা মূল্যে পাঁচ একর জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ১০ লাখ রিঙ্গিতে (২ লাখ ১২ হাজার ডলার) সেই জমি কিনে নিয়েছেন। সরকারি রেকর্ড আছে, আমি কখনও সরকার থেকে ফ্রি একটি পয়সাও নিইনি। ”

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে খুব বেশি সুবিধা করতে না পেরে আনোয়ার ইব্রাহিম এখন তার বড় দুই ছেলে মিরজান মাহাথির ও মখজানি মাহাথিরের পেছনে লেগেছেন।

গত জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) মিরজান ও মখজানিকে প্যান্ডোরা ও পানামা পেপারস ফাঁসের পর তাদের সম্পদের হিসাব দেখাতে বলেছিল। এর তিন মাস পর এপ্রিলে এমএসিসি জানায়, তারা মাহাথিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করছে।

মাহাথির দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে তার ছেলেদের ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি চাইনি আমার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠুক। আমি ক্ষমতা ছাড়ার পর মখজানি তার ব্যবসায় সফল হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় সে সফল ব্যবসায়ী ছিল না। তখন সে পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে চাকরি করত। ”

২০১৮ সালে মাহাথির যখন আবার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তখন তিনি হলফনামায় তাঁর ৬৯ লাখ ডলার (৩ কোটি সাড়ে ২৩ লাখ রিঙ্গিত) সমমূল্যের সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচন করতে গিয়ে বেশির ভাগ অর্থও তিনি খরচ করে ফেলেছেন বলে জানান।

মাহাথির বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি সরকার থেকে সরে গেলেও রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম। দল চালাতে আমার নিজের জমানো তহবিল ছাড়া অর্থের আর কোনও উৎস ছিল না...আমার বেশির ভাগ অর্থই রাজনীতিতে খরচ হয়ে গেছে। ”

news24bd.tv/DHL