সব ধর্মের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছে আওয়ামী লীগ

সংগৃহীত ছবি

প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর

সব ধর্মের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ, যদিও সে সময় এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। পরে এর নাম ছিল ‘নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী অবদান রেখেছিল দলটি।

  

বিশেষ করে ৬০ এর দশকে আন্দলোন সংগ্রামে এ দেশের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছিল দলটি। দলটির প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর উপলক্ষে এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘৬০ এর দশকে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা বাংলার মাটিতে সব ধর্মের মানুষের সমানাধিকারের নীতি নিয়ে পুরো দেশকে এক সুতোয় গাঁথতে সমর্থ হয়েছিল। ’তবে এর পরও সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ।  

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠনের সময় জেলে থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান এ দলের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জুলাই মাসের শেষের দিকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালের ৯ জুলাই দলের কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করলে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ওই কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৭ সালের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় কাগমারিতে এবং একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল সাংস্কৃতিক সম্মেলন। ৩০ মে দলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, একই ব্যক্তি এক সঙ্গে সরকার ও সংগঠনের দুটো পদে থাকতে পারবেন না। শেখ মুজিব দলকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

অপরদিকে মওলানা ভাসানী পদত্যাগ করায় ১৯৬৪ সালে মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছয় দফা উপস্থাপনের বছর ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পর তিনি ছয় দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা পূর্ব বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন।

৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মহিলাসহ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে বাকশাল গঠন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে এদেশের মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন। এর মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ছিল বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়। আরও বিস্ময় ছিল দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চার ইতিহাসের ঔজ্জ্বল্য।

একইভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যার্বতনের পর দীর্ঘ ৪০ বছর দলের দায়িত্বে থেকে শেখ হাসিনা এ দেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও উন্নয়নের ধারায় উন্নত রাষ্ট্রের মহিমা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস যেমন বাংলাদেশের ইতিহাস তেমনি আওয়ামী লীগের ইতিহাস বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা যুগের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির ইতিহাস।

মূলত জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। কেবল নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় নয়; শেখ হাসিনা যেকোনো দলীয় সভায় বলে থাকেন, এ দেশ সবার। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কখনই ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজেরাই নিজেদের অবহেলিত মনে না করেন, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে বলেছেন তিনি।

news24bd.tv/আইএএম 

পাঠকপ্রিয়