‘মঞ্চকুঁড়ি’ ও ‘মঞ্চমুকুল’ পদক পেল ৩৯০ জন

পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন

‘মঞ্চকুঁড়ি’ ও ‘মঞ্চমুকুল’ পদক পেল ৩৯০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‌‘শিশু নাটকের শক্তি আমাদের বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অনেক গুরুত্ববহন করে এবং আমাদের নাটক বিশ্বে সমাদৃত হয়ে এসেছে’ - শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী।

২৬২টি শিশু-কিশোর, আদিবাসী ও অবহেলিত শিশু-কিশোর ও যুবনাট্য সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন বিগত ৩৩ বছর ধরে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় ‘মঞ্চকুঁড়ি’ ও ‘মঞ্চমুকুল’ পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবার সারা দেশ থেকে মোট ৩৯০ জনকে ‘মঞ্চকুঁড়ি’ ও ‘মঞ্চমুকুল’ পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী এবং পরিবেশনায় ছিল পিপলস লিটল থিয়েটার।

আলোচনা পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশিষ্ট নাট্যকার, গবেষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহফুজা  হিলালী। অতিথির বক্তব্য দেন পিপলস থিয়েটারের সংগীতের প্রধান শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসমীন আলী।

শিশুদের মধ্যে বক্তব্য দেন সামিয়া মুত্তাকিয়া মহুয়া ও পুষ্পিতা বেপারী। আলোচনাপর্বে সভাপতিত্ব করেন পিপলস থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী।  

সভাপতির বক্তব্যে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, প্রায় সবদেশেই শিশুদের নিয়ে নাটক হয়। আজকে সারা বিশ্বে যে শিশু নাটক হচ্ছে সেখানে আমরা অংশগ্রহণ করছি ১৯৯০ সাল থেকে। জার্মানীতে একটি নাট্যোৎসবে ‘ডাকঘর’ নাটকটি নিয়ে আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম। ২৫ দেশ সেখানে অংশগ্রহণ করেছিল। ৪জন জুরি মেম্বার, মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে।  তিনজনই ২৫টি দেশের মধ্যে ৫/৭টা দেশের কথা বলেছিল যাদের নাটক ভালো লাগে তারমধ্যে তিনজনের কথাই বাংলাদেশর নাম ছিল।

চতুর্থজন যিনি তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি সকলের নাটক দেখলাম যে, বিশ্বের সব দেশের নাটকগুলো মাটি থেকে শুরু হয়ে মনে হলো সেটি হাটুতে এসে শেষ হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’ নাটকটি হৃদয় থেকে শুরু হয়ে সেটি বাতাসে মিলিয়ে গেল। ’ তাহলে বুঝতে পেরেছেন শিশু নাটকের শক্তি আমাদের বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে  কতটা গভীরে এবং আমাদের নাটক বিশ্বে কীভাবে সমাদৃত হয়েছে।

আলোচনা পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য ‘অবহেলার মৃত্যু আর নয়’। নৃত্যের এই গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন লিয়াকত আলী লাকী। নৃত্য নির্মিতীতে  আরোহী সেন, সহযোগী নৃত্য পরিচালনায় এস কে জাহিদ এবং পরিবেশনায় ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু নৃত্যদল। এরপর সমবেত সংগীত ‘মুক্ত জীবন গড়ে তোলার মঞ্চ মোদের তরণী’ ও ‘এমাটি নয় জঙ্গীবাদের এমাটি মানবতা’ পরিবেশিত হয়। গানের কথা ও সুরকার ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী এবং পরিবেশনায় ছিলেন মঞ্চমুকুল সংগীতদল। পরিবেশনার এ পর্যায়ে লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও নির্দেশনা নাট্যালেখ্য ‘বাংলার মুখ’ পরিবেশন করে পিপলস লিটল থিয়েটার। এরপর পরিবেশত হয় সমবেত নৃত্য ‘আমার পরিচয়’। ভাবনা ও পরিকল্পনায় শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী, নৃত্য নির্মিতীতে  মেহরাজ হক তুষার, সহযোগী নৃত্য পরিচালনায় এস কে জাহিদ, পরিবেশনায় মঞ্চমুকুল নৃত্যদল। নৃত্যের পর লিয়াকত আলী লাকীর কথা ও সুরে ‘আমরা সবাই মঞ্চকুঁড়ি নটনন্দনে ফুটবো’ এবং ‘মনের রঙ লেগেছে’ সমবেত সংগীত দুটি পরিবেশন করে মঞ্চকুঁড়ি সংগীতদল। ধারাবাহিক পরিবেশনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু-কিশোর সংগীতদল মেলডি পরিবেশন করেন।

এরপর পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য ‘চলো বাংলাদেশ’। নৃত্যটির ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী, নৃত্য নির্মিতীতে ছিলেন জয়দীপ পালিত, সহযোগী নৃত্য পরিচালনায় এস কে জাহিদ এবং পরিবেশনায় ছিলেন মঞ্চকুঁড়ি নৃত্যদল। সবশেষে সারাদেশ থেকে আগত শিশুশিল্পীদের ‘মঞ্চকুঁড়ি’ ও ‘মঞ্চমুকুল’ পদক  এবং  সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

news24bd.tv/তৌহিদ

সম্পর্কিত খবর