পর্দা নামলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মেশিনারিজ প্রদর্শনীর

পর্দা নামলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মেশিনারিজ প্রদর্শনীর

অনলাইন ডেস্ক

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মেশিনারিজ প্রদর্শনী-২০২৪’ এর পর্দা নামলো। শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীর শুরু থেকেই পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে আইসিসিবি প্রাঙ্গণ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাজুস নেতারা বলেন, জুয়েলারি শিল্পের বিকাশে প্রধান বাধা চোরাচালান ও বাড়তি শুল্ক।

চোরাচালান রোধ, বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার এবং জুয়েলারি শিল্পসহায়ক নীতি সহায়তা পেলে এই শিল্পে বিপ্লব ঘটবে।  

এতে বক্তব্য দেন বাজুস মুখপাত্র ও সাবেক সভাপতি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. দিলীপ কুমার রায়, সহ-সভাপতি গুলজার আহমেদ, মো. রিপনুল হাসান, মাসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি ও প্রদর্শনীর সমন্বয়ক সমিত ঘোষ অপু।  

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ফিতা কেটে আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ও কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুসের নেতারা।

তারা বলেন, ‘সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে সুন্দরভাবে আমরা ব্যবসা করতে চাই। তবে এজন্য ভালো নীতি সহায়তা আমাদের দরকার। ’

প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গহনায় হোক প্রযুক্তির ছোঁয়া’। এই প্রদর্শনীতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগছে না। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও পণ্যভিত্তিক সর্ববৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন-বাজুস ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান কেএনসি সার্ভিসেসের যৌথ আয়োজনে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।  

দেশে নতুন জুয়েলারি কারখানা স্থাপন ও পুরনো কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।  

আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মেশিনারিজ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ভারত, ইতালি, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, চীন, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশের ৩০টি প্রতিষ্ঠান। ।

স্বর্ণালংঙ্কার তৈরির প্রায় ৪০ ধরনের মেশিনারিজ নিয়ে এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয় পুরান ঢাকার তাঁতী বাজারের প্রতিষ্ঠান বণিক স্টোর। প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা যেমন এসব মেশিনারিজ তৈরি করে, তেমনি ভারত, চীন, ইতালি ও থাইল্যান্ড থেকেও আমদানি করে। তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ শতাংশ মেশিনারিজই আমদানি করা হয় ভারত থেকে।

বণিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী ভবেশ কুমার বণিক প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বর্তমান আধুনিক যুগে স্বর্ণালংকার তৈরির বিভিন্ন আধুনিক মেশিন আছে। দেশের বড় বড় শহরের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে গহনা সেসব আধুনিক মেশিনারিজ থাকলেও মফস্বল শহরগুলোতে এখনো সনাতন পদ্ধতিতেই গহনা তৈরি করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে গহনা তৈরি করলে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগে, তেমনি স্বর্ণেরও অনেকটা ক্ষয় হয়। প্রতি ভরিতে প্রায় ৬-৭ শতাংশ স্বর্ণ নষ্ট হয়। কিন্তু আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে করলে নষ্ট হয় মাত্র ২ শতাংশ। এতে অনেকটা স্বর্ণ সাশ্রয় হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা যাতে এসব মেশিনারিজ সম্পর্কে জানতে পারে তাই এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া।

তুরস্কের প্রতিষ্ঠান গুভেনিস এই প্রদশনীতে অংশ নেয়। তারা চুড়িসহ বিভিন্ন গহনা গোলাকৃতির করার রোলিং মেশিন ও জুয়েলারি প্যাকেট করার প্যাকিং মেশিন তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধি ওসমান বলেন, বাংলাদেশে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে হাতে গহনা তৈরি ও প্যাকেটজাত করে। তারা আধুনিক মেশিন সম্পর্কে তেমন জানে না। তারা যেন আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে এসব কাজ করতে পারে, সেটি সম্পর্কে জানতেই এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া।

জুয়েলারির বিভিন্ন মেশিনারিজ তৈরি করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অমর মেশিন টুলস। বাংলাদেশে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশক অভি ডাইস কাটার। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে প্রদর্শনীতে। অভি ডাইস কাটারের স্বত্বাধিকারী অটল কর্মকার বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা যেমন আমাদের মেশিনগুলো সম্পর্কে দর্শনার্থীদের জানতে পারছি, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ায় তাদের মেশিনারিজ সম্পর্কেও আমরা জানতে পারছি। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছে। শুরুর দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আগামীতে এই ধরনের আরও প্রদর্শনী হলে অচিরেই দেশের স্বর্ণশিল্প আধুনিক হয়ে উঠবে।

দিনাজপুর থেকে খালুর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মেশিনারিজ প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন রাহাত রেজওয়ান। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তার খালুর নকশা জুয়েলার্স নামের গহনার দোকান রয়েছে। রাহাত গণমাধ্যমকে বলেন, বাজুসের মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর কথা জানতে পেরেছি। জুয়েলারি শিল্পের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে এই প্রদর্শনীতে এসেছি। প্রদর্শনী ঘুরে যা দেখলাম, তাতে মনে হলো, এসব মেশিনারিজ দিয়ে গহনা তৈরি করলে কাজটা অনেক সহজ হবে। দেশের স্বর্ণশিল্পে নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

লক্ষ্মীপুরে অভি শিল্পালয় নামের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বিকাশ দাসের। তিনিও এই প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন। বিকাশ প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন বলেন, এখন আমরা হাতেই গহনা তৈরি করি। কিন্তু ক্রেতারা আমাদের কাছে মেশিনের কাজ চায়। তাই এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে এলাম কেমন মেশিনারিজ আছে। আমরা কী ধরনের মেশিন ব্যবহার করতে পারি, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যা আগামীতে কাজে লাগবে।

news24bd.tv/আইএএম

পাঠকপ্রিয়