টেকনাফে নাফ নদীর তীরে বিস্ফোরণ, তিন রোহিঙ্গা হতাহত

সংগৃহীত ছবি

টেকনাফে নাফ নদীর তীরে বিস্ফোরণ, তিন রোহিঙ্গা হতাহত

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর তীরে মাইন বিস্ফোরণে একজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই রোহিঙ্গা। নাফ নদীর তীরে কাঁকড়া ধরার সময় রবিবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটেছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওসমান গণি ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, ‘হতাহত রোহিঙ্গারা নাফ নদের লালদিয়া দ্বীপের তীরে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোঁড়া বিস্ফোরণের শিকার হয়েছেন। হতাহত রোহিঙ্গা তিনজন কোনো ক্যাম্পের বাসিন্দা নয়। তারা অনেক আগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। ’

ওসি আরো জানান, এক রোহিঙ্গা আহত অবস্থায় কিছুক্ষণ পর মারা যান।

আহত অপর দুই রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (ইউপি মেম্বার) মোহাম্মদ জানান, নিহতের নাম মোহাম্মদ জুবায়ের (২৫)। তার বাবার নাম মোহাম্মদ হামিদ। স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় এসব ভাসমান রোহিঙ্গা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

ইউপি মেম্বার আরো জানান, রবিবার সন্ধ্যায় নাফ নদের লালদিয়া দ্বীপের এপাড়ে রোহিঙ্গাত্রয় কাঁকড়া ধরতে যায়। এ সময় আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হন। সবচেয়ে বেশি আহত হন জুবায়ের। তাকে ঘটনাস্থল থেকে জাদিমুরা ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর মারা যান। অপর দুজন আহত রোহিঙ্গা হচ্ছেন শাহ আলম ও আবদুস শুক্কুর। তাদের দুজনকেই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, নাফ নদের বুকে অবস্থিত লালদিয়া নামের ছোট্ট দ্বীপটিতে বর্তমানে অবস্থান করছে মিয়ানমারের সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেসন আর্মি-আরসা। লালদিয়া দ্বীপে সশস্ত্র আরসা সন্ত্রাসীদের ডেরা নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে তারা (আরসা) এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অপরদিকে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী স্থানীয়দের বরাতে জানান, মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির ছোঁড়া মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় নাফ নদ তীরে রবিবার সন্ধ্যার হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছে।  

news24bd.tv/DHL