ভারতের পর চীন সফরের গুরুত্ব অপরিসীম

ভারতের পর চীন সফরের গুরুত্ব অপরিসীম

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

আজ ৮ জুলাই, চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েক দিন আগে গত ২১-২২ জুন তিনি ভারতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চীন ও ভারত, দুই দেশের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ থাকলেও প্রথমে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেছেন। দেশ দুটি বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং দুই উদীয়মান পরাশক্তি।

এমন দুটি দেশে পর পর সফরের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সব দেশের সঙ্গেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সুসম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উপাদানগত দিক থেকে যোজন যোজন তফাত আছে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের ইতিহাস, মাত্রা, গভীরতা ও স্পর্শকাতরতা বহুবিধ কারণে অনেক অনেক বেশি, যার মধ্যে নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন বড় দুই উপাদান। চীন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে।

বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। তার পরও বঙ্গবন্ধু চীনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সব কিছুতে পিতার দর্পণে এগোবার চেষ্টা করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, দুজনে মিলে পুরো অঞ্চলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ রচনা করতে চেয়েছিলেন।

সে কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর দুই বিজয়ী নেতারই লক্ষ্য ছিল পেছনের তিক্ততাকে পেছনে ফেলে ভারত-বাংলাদেশের উদ্যোগের সঙ্গে পাকিস্তানকেও নিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় যদি একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় তাহলে তার প্রভাবে চীনও পরবর্তী সময়ে এগিয়ে আসবে। সে কারণেই দেখা যায়, একাত্তরের যুদ্ধে পশ্চিম ফ্রন্টে পাকিস্তানের পাঁচ হাজার ১৩৯ বর্গমাইল এলাকার দখল ভারত ছেড়ে দেয় এবং ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দিকে ফেরত পাঠায়। একই উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে যান এবং ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। কিন্তু পাকিস্তান ভারত-বাংলাদেশের উদারতার মূল্যায়ন করেনি।
বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর সব কিছু উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবার সেই চেষ্টা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর কারণে পুরো দক্ষিণ এশিয়া যখন বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও পাকিস্তানে ছুটে গেছেন এবং দুই পক্ষকেই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। এরপর ১৯৯৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে বাসে করে পাকিস্তানের লাহোরে গেছেন। কিন্তু সেবার পাকিস্তান আর্মি কারগিল যুদ্ধ বাধিয়ে সব নষ্ট করে দেয়।

চীন-ভারতের সীমান্ত দ্বন্দ্ব চীনের ডাইনাস্টিক শাসনামল ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের লেগাসি। তার সঙ্গে দালাই লামা ইস্যু এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দহরম-মহরম সম্পর্কের কারণে ষাটের দশকের শুরু থেকেই চীন-ভারত সম্পর্ক ওঠানামার মধ্যে থেকেছে, কখনোই সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে এসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত মিলে একটা নতুন শক্তি ভারতের পর চীন সফরের গুরুত্ব অপরিসীমবলয় তৈরি করেছে, সেটিকে চীন তার নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছে। বিপরীতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, জিবুতি এবং পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোয় চীনের ব্যাপক বিনিয়োগ ও সংযোগ দেখে ভারতের কিছু থিংকট্যাংক মনে করছে চীন ভারতকে ঘিরে ফেলার নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। এরপর ঘটে আরেক বড় ঘটনা। ২০১৫ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে চীন বিশাল অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ শুরু করলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো পড়ে যায়। ২০১৭ সালে চীন-ভুটান সীমান্তের ডোকলাম পয়েন্টে চীন-ভারতের সেনারা প্রায় ৭৩ দিন মুখোমুখি যুদ্ধাবস্থায় থাকার পর দুই দেশের নেতৃত্বের পরিপক্বতায় একটি গুলি ছোড়া ব্যতিরেকেই আবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরে আসে। এত কঠিন ও জটিল দ্বন্দ্ব-বিরোধের দীর্ঘ প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান নগরীর ইয়াংজি নদীর তীরে বসে শি চিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, তা দেখে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা হয়েছিল আঞ্চলিক শান্তি-সমৃদ্ধির স্বার্থে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দর্শন বোধ হয় ফিরে আসছে। কিন্তু ২০২০ সালের জুন মাসে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) অতিক্রম করে চীনের সৈন্যরা হঠাত্ করে কেন ভারতীয় সৈন্যদের ওপর অপ্রচলিত অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করল, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। সেই রক্তারক্তি ঘটনার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ পরিপূর্ণভাবে আর গলেনি।

সব পক্ষের মনে রাখা ভালো মানবসভ্যতার বিকাশ, বিস্তার ও ধারাবাহিকতায় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত, অবাঞ্ছিত ও বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে, যা না ঘটলে বোধ হয় ধরণি আজ অনেকটাই ভালো থাকত। কিন্তু ইতিহাসের চাকা রোল ব্যাক করে আগের জায়গায় ফেরানোর চেষ্টা, অথবা প্রতিশোধের স্পৃহায় ভালো কিছু তো নয়ই, বরং সবার জন্য তা মহা বিপজ্জনক হবে। উপরোক্ত ঐতিহাসিক ও সমকালীন দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকা সত্ত্বেও চীন-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে কখনোই পরিপূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করেনি, যা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। চীন-ভারত আন্ত বাণিজ্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেটি সর্বোচ্চ ১২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যার পাল্লা চীনের দিকেই ভারী। চীনের নেতৃত্বে গঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) ভারত স্থায়ী সক্রিয় সদস্য। বহুল আলোচিত ব্রিকস (BRICS) , এখন ব্রিকস প্লাসে ভারত-চীন একই সঙ্গে কাজ করছে। ভবিষ্যতে ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং মর্যাদাপূর্ণ নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য হতে চাইলে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। বিপরীতে চীন যদি ২০৪৯ সালের মধ্যে সমৃদ্ধিশালী দেশ হতে চায়, তাহলে ভারতের সঙ্গে সংঘাত জিইয়ে রেখে তা পারবে না। ২০১৮ সালে চীনের উহানে মোদি-শি চিনপিংয়ের মুখোচ্ছবি দেখে সেটাই মনে হয়েছে।

চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হলেও দুই দেশই কিন্তু পারস্পরিক উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ রকম এক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কঠিন বাস্তবতায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ জলবায়ুজনিত অভিঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে বৃহত্ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও খেলার মধ্যে না জড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অটুট রেখে একই সঙ্গে সব শক্তিবলয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অতি অপরিহার্য।

কখনো কখনো ভূ-রাজনীতির বড় পক্ষগুলোর কেউ কেউ বাংলাদেশকে নিজেদের পক্ষভুক্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও পরিপক্বতার সঙ্গে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন। আবার এক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের আদান-প্রদান যেন অন্য পক্ষের জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেটাও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কখনো কখনো তাঁর সূক্ষ্ম রশির ওপর দিয়ে চলার ভঙ্গিমা ও ভাষা দেখে-শুনে মনে মনে শঙ্কিত হয়েছি এবং তা দু-একজন ঘনিষ্ঠ মানুষের কাছে প্রকাশও করেছি। কিন্তু দিনশেষে এ পর্যন্ত তিনি সব সময়ই তরি কূলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচন এক কঠিন সময় ছিল। দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে অতিক্রম করে নতুন যাত্রার শুরুতে তিনি ভারত সফর শেষ করেই স্বল্প দিনের ব্যবধানে চীন সফরে যাচ্ছেন। এটা বড় অর্থপূর্ণ ঘটনা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন যাত্রাটি শুরু হয়। তখন বাংলাদেশের একটি দৈনিকের প্রধান হেডলাইন ছিল, ‘নতুন ইতিহাসে বাংলাদেশ-চীন’। অপর এক দৈনিকের হেডলাইনে বলা হয়, ‘দুই দেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে পৌঁছাল’, যে কথা শি চিনপিং তখন বলেছিলেন। সে সময় জিটুজি ২৪.৫ বিলিয়ন ও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৩.৬ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক আলাদা বা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ এ অঞ্চলের আরো কিছু দেশ ভূ-রাজনীতির সমীকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে থাকলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের দিকের পাল্লাই ভারী। আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রায় একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং কোনো পক্ষেরই অবস্থা জিরো নয়, অর্থাত্ সব কিছুর ওপরই এক পক্ষের কর্তৃত্ব থাকবে এমন অবস্থা এখন নেই। সে কারণেই অনেক আগে লিখিত ‘হেনরি কিসিঞ্জার অন চায়না’ গ্রন্থের ৫২৩ পৃষ্ঠায় কিসিঞ্জার যা বলেছেন, তার বাংলা হবে : ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের বেলায় পরস্পরকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার লক্ষ্য থাকলে তা হবে বিপজ্জনক। আন্তর্জাতিক ফ্রন্টের প্রধান প্রধান ইস্যুগুলোকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে। সব কিছুতে একমত হওয়া কঠিন হলেও সামরিক সংঘাত হবে সবার জন্যই আত্মঘাতী। ’ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো কিসিঞ্জারের নীতিতে চীন ও আমেরিকার সঙ্গে সব কিছুতেই না হলেও অনেক কিছুতেই সমদূরত্ব বজায় রাখছে। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরের কিংবদন্তি ও বিশ্বের জন্য রোল মডেল নেতা প্রয়াত লি কুয়ান মোক্ষম কথাটি বলে গেছেন। তিনি বলেছেন, Viven its ower, actual and potential, china must be part of any arrangement for peace and stability and that the region’s smaller countries would have to learn to live with it. But that did not mean they could be sanguine about china’s peaceful attitude of correct non-interference in the internal affairs of other countries. America’s presence is reassuring, but the US is an outsider with a hegemonistic record (Ref: Sunanda K Datta Ray-Looking East to Look West, p-8)|

 সুতরাং চীন-আমেরিকার দ্বন্দ্বে এতদঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের স্বার্থেই একটা ভারসাম্য রক্ষা করবে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কাজটি ১৫ বছর ধরে খুবই পরিপক্বতার সঙ্গে করে আসছেন। আর সে কারণেই সম্প্রতি ভারতে অত্যন্ত সফল একটি সফর শেষ করে তিনি এখন চীনে যাচ্ছেন। এবার আলোচনায় অবশ্যই ২০১৬ সালে শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতার একটা অর্থপূর্ণ মূল্যায়ন হবে। একই সঙ্গে রেল ও সড়কের ৯টি প্রকল্পসহ কিছু মেগাপ্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর বেরিয়েছে। জানা গেছে, চলমান সম্পর্ক চীন আরো এক ধাপ এগিয়ে নিবিড় কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চাইছে। প্রকল্পে অর্থায়নের চেয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে আসা উচিত।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সহিংসতায় দেশটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে  BCIM (বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার) এবং BIMSTEC-এর মতো উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় উপ-আঞ্চলিক সংঘগুলো একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। রাখাইন রাজ্যের গৃহযুদ্ধের জন্য বাংলাদেশ বড়ই অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। এরপর রোহিঙ্গা সমস্যা তো ক্রমেই ডালপালা বিস্তার করছে। এটা একসময়ে এসে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বাংলাদেশের জন্য বড় নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করবে। তার আকার কত বড় হতে পারে তা কয়জন অনুমান করতে পারছেন জানি না। ২০১২ সাল থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষ থেকে বারবার যা বলা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্ব পেলে রোহিঙ্গা ইস্যু এত বড় সংকট তৈরি করতে পারত না। মিয়ানমারের অশান্তি ও সহিংসতা বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে ভূ-রাজনীতির বড় খেলোয়াড় বা সবাই একমত হবে না। তবে আসিয়ান দেশগুলো নিজেদের স্বার্থেই মিয়ানমারে শান্তি চাইবে। মিয়ানমারের ভেতরে চীন ও ভারতের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ আছে। তাই চীন-ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ নিতে পারলে একটা পথ বের হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য সেটা হবে বিশাল স্বস্তির বিষয়।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

sikder52@gmail.com
 

পাঠকপ্রিয়