যুদ্ধের পরও উচ্চ আয়ের তালিকায় রাশিয়া

যুদ্ধের পরও উচ্চ আয়ের তালিকায় রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার দুবছর পেরিয়ে গেছে। এর মাঝে পশ্চিমা বহু নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেও উচ্চ আয়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছে রাশিয়া। দেশটির অর্থনীতি উচ্চ-মধ্যম আয় থেকে উচ্চ আয়ে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক র‍্যাংকিংয়ে রাশিয়াকে উচ্চ আয়ের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া সত্ত্বেও রাশিয়ার এই দৃশ্যমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন অবাক করেছে অনেককেই। যেখানে পশ্চিমা বিশ্ব ভেবেছিলো নিষেধাজ্ঞার কবলে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেখানে ঘটনা ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। প্রতি বছর বিশ্বব্যাংক দেশের নাগরিকদের গড় আয় অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় আগে রাশিয়া উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে ছিল, কিন্তু এখন তারা উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংক দেশগুলোকে উচ্চ আয়, উচ্চ-মধ্য আয়, নিম্ন-মধ্য আয় এবং নিম্ন আয়ের দেশে বিভক্ত করেছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এক দেশের নাগরিকদের বার্ষিক গড় আয় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হলে সেই দেশ উচ্চ-মধ্য আয়ের তালিকায় স্থান পায়। রাশিয়া এই মানদণ্ড পূরণ করে এখন উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

কীভাবে সম্ভব হয়েছে এই উন্নয়ন?

রাশিয়ার উন্নতির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পুতিন সরকারের নীতি এবং যুদ্ধের সময় দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধের সময় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের সাধারণ নাগরিকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বেকারদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছে।

তবে রাশিয়ার এই উন্নতি নতুন চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দিয়েছে। দেশটিকে এখন উচ্চ হারে কর আদায় করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করের বোঝা মূলত উচ্চবিত্ত নাগরিকদের ওপর পড়বে, মধ্যবিত্তদের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছিলো তা অন্যান্য কোনো দেশ একসঙ্গে মোকাবিলা করেনি।

রাশিয়ার প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রিমাকভ ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আলেকজান্ডার ডিনকিন গত মাসে ইটিকে বলেছিলেন, "আমরা শক্তি সংস্থান, কাঁচামাল এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের একটি দক্ষ শ্রমবাজার রয়েছে। আমাদের মৌলিক বিজ্ঞান বিশ্বমানের। আমাদের জাতীয় উদ্ভাবন ব্যবস্থা সফলভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।

গত মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি ভারী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশটি আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার দেশগুলির সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসারিত করেছে। সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং স্বেচ্ছাসেবক সৈন্যদের মোটা অর্থ প্রদানের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী পরিবর্তন ঘটেছে।  

লন্ডন-ভিত্তিক ইউরোপীয় ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইবিআরডি) অনুসারে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনীতি এই বছর আরও বৃদ্ধি পাবে। ইবিআরডি প্রধান অর্থনীতিবিদ বিটা জাভোরসিক মে মাসে এএফপিকে বলেছিলেন, "আমি মনে করি এটি আশা করা অবাস্তব ছিলো যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলি গভীর অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকটের দিকে নিয়ে যাবে, যেমনটি অনেকেই আশা করেছিল। '' (সূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস)

news24bd.tv/SC