কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচরে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম মোল্লার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।  

অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সভাপতির নাম সাদ্দাম মোল্লা। শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের অছিম বেপারীর কান্দি গ্রামের দলিল উদ্দিন মোল্লার ছেলে।  

মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক এস এ এম ফরহাদ রাহী মীর অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দাখিলকৃত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত  পহেলা এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম শিবচর উপজেলার সন্যাসীরচর ইউনিয়নের শরীফকান্দি এলাকা থেকে চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে চোর চক্রের সদস্য সাইমুন হাওলাদার নামে একজনকে আটক করা হয়।  

গ্রেপ্তারকৃত সাইমুন হাওলাদার তখন জানান, মোটরসাইকেলটি সাদ্দাম মোল্লা ও মাসুম মুন্সী তার নিকট রেখেছে বিক্রয়ের জন্য।  

পরবর্তীতে সাইমুনের বিবরণ ও তথ্য প্রমান অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

এরপর মামলার তদন্ত করেন মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক এস এ এম ফরহাদ রাহী মীর। তিনি ঘটনা তদন্ত করে গত ২৯ জুন ২০২৪ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি সাদ্দাম মোল্লা (২৬) অভ্যাসগতভাবে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন চোরের সহায়তায় দেশের বিভিন্নস্থানে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে অধিক মূল্যে বিক্রি করতেন।  

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, সাদ্দাম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরাতন মোটরসাইকেলের ব্যবসা করে। আমিও একটা ইয়ামাহা বাইক কিনেছিলাম। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি বাইকটি মূলত কাগজবিহীন। এটা নিয়ে শালিস মিমাংসাও হয়েছে।

এই ব্যাপারে শিবচর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেন মাদবর বলেন, বিষয়টি জানি, বিষয়টি শুনেছি আমরা। সে যেই গাড়িটি বিক্রি করছে সে গাড়িটি (মোটরসাইকেল) আসলে চোরাই। গাড়িটি যার কাছে বিক্রি করছে তাকেও নাকি পুলিশ ধরছে এবং সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তার কাছ (সাদ্দাম মোল্লার) থেকে কিনেছে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে খুঁজতে গিয়েছিল কিন্তু তাকে পায় নাই। আমরা যতটুকু জানি সে জড়িত। কিন্তু প্রমাণিত যদি আইনগত ভাবে হয় তাহলে প্রমাণিত। যদি চার্জশিটে নাম চলে যায় তাহলে বিষয়টি নিয়ে উপরস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করব। যদি প্রমাণিত হয় সে এটার সাথে জড়িত তহলে আমরা তার বিরুদ্ধে দলগত বা সাংগাঠনিকভাবে সিনিয়ার নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নিবো।

তবে মোটরসাইকে চুরির ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয় কিছুই জানেন বলে জানান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম মোল্লা। এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই।

news24bd.tv/কেআই