টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি 

বন্যা

টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি 

নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, সদর ও নাগরপুর উপজেলার ৪০ হাজার মানুষ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলার সার্বিক বন্যাপরিস্থিতি কোথাও অপরিবর্তিত, আবার কোথাও অবনতি হয়েছে।  

এছাড়া জেলার মির্জাপুর, বাসাইল ও দেলদুয়ার উপজেলায়ও বন্যা আগ্রাসী হাতছানি দিচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকার সড়ক ভেঙে ও বাঁধ উপচে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায়  যমুনা ও ঝিনাই নদীর পানি সামান্য কমলেও অন্য সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৩ সেণ্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েণ্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, টাঙ্গাইলের প্রায় সবক’টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরীর পানি সামান্য কমলেও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও দুই দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ভাঙন এলাকায় জরুরি পরিষেবা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে আউশ ধান, পাট, তিল ও সবজি ক্ষেত রয়েছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষকরা মানাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।  

এদিকে, রোববার (৭ জুলাই) বিকালে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যা কবলিত অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির ও জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম।  

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনি, মসলা সহ সাড়ে ১৪ কেজি ওজনের প্যাকেট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পানির পাত্র বিতরণ করেছে।

news24bd.tv/ইমরান হোসেন

এই রকম আরও টপিক