কমছে যমুনার পানি, বাড়ছে খাদ্য সংকট

কমছে যমুনার পানি, বাড়ছে খাদ্য সংকট

আব্দুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জ

যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২ সে.মি কমে বিপদসীমার ৩৭ সে.মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধীর গতিতে পানি কমায় জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৩৪টি ইউনিয়নের এখনো ৯৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী মানুষের কাজকর্ম না থাকায় বানভাসী মানুষের মধ্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে জনপ্রতি ১০কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো অনেক মানুষ ত্রাণ সামগ্রী থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে নস্ট হয়ে যাওয়া কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

জনপ্রতিনিধিরা বলছে, সরকার থেকে যে চাল দেওয়া হয়েছে তা বন্যা কবলিত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।

অন্যদিকে, পানি কমার সাথে সাথে যমুনার অরক্ষিত অঞ্চল কাজিপুরের খাসরাজবাড়ী, তেকান, নিশ্চিতপুর, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, শাহজাদপুর উপজেলার আড়কান্দি, পাঁচিল, কৈজুরী, জালালপুর ও চৌহালীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, কবরস্থান, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

সয়দাবাদ ইউপির বাঐতারা, পুর্বমোহনপুর গ্রামের বন্যা কবলিতরা জানান, পানির অপর নাম জীবন হলেও যমুনার পানি এখন আমাদের মরনে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ী, তাঁত কারখানা ও ফসল এখনো পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। মানুষের কাজ কর্ম না থাকায় খুব কষ্টে জীবনযাপন করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নৌকা করে দূর থেকে পানি এনে পান করতে হচ্ছে। পানিতে থাকায় হাত পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। নানা অসুখ দেখা দিয়েছে। মানুষের কাছে ওষুধ কেনার টাকা নেই। রাতে পানিতে পোকা-মাকড়, সাপ বিচ্চুর ভয় নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। কস্টে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ নেয় না।

আর ভাঙন কবলিতরা জানান, ভাঙনে বসতবাড়ী ও ফসলি জমিসহ সবকিছু হারিয়ে রাস্তার ফকির হয়ে যাচ্ছি। ভাঙনরোধে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিদিন ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে হচ্ছে।

সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী। সরকার থেকে মাত্র ২টন চাল ও ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চারশ মানুষে মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, যারা পানিবন্দী তারা অত্যন্ত গরীব ও দিনমজুর। কাজ কর্ম না থাকায় পানিবন্দী মানুষ খুব কষ্টে রয়েছে। পানিবন্দীর চেয়ে ত্রাণ একেবারে অপ্রতুল উল্লেখ করে দ্রুত সরকারের কাছে আরো ত্রাণ বিতরণের দাবি জানান।

কাওয়াকোলা ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী বলেন, কাওয়াকোলা ইউনিয়নে বন্যায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তিন থেকে চার শতাধিক বসতভিটাসহ ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, যমুনা নদীর তীর সার্বক্ষিণিক মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধে কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর যেসব এলাকায় তীব্র ভাঙন সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর ভাঙন তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

news24bd.tv/তৌহিদ

এই রকম আরও টপিক