সুলতানা বিবিয়ানা

অলংকরণ: মৃনাল

সুলতানা বিবিয়ানা

নাসরীন জাহান 

নাসরীন জাহান

মোমের পায়ের নিচে প্রদীপ কী আর হতে পারত?
মূলত ভীতু আমি ভদকা গিলে সমুদ্রে এসেছি,
সাঁতার জানি না,
মূলত পথের মাঝে।  
পোকা হয়ে উড়ছি,
উড়ে উড়ে শৈশব আসে,
সুলতানা বিবিয়ানা,
তারপর? 
পাখি প্রশ্ন করে দূরে চলে যায়,
ভেতরের তন্ত্রি ছিঁড়ে যায়,
বাড়ির কাছের মাঠ,
সেখানে রেলগাড়ির মতো ঘুরছি,
পাগলা ঘোড়া ছুটেছে,
বন্দুক দিয়ে মেরেছে।
কী অনায়াসে বন্দুক ছুটে যায়
কী অহেতুক ছন্দ খেলে যায়,
সরল বালিকা বালকের পিঠ
ছুঁয়ে পাক খাই,
সুলতানা বিবিয়ানা, 
ধুলোমাখা মেয়ে আমি,সেই সাহেবেরই বিবি,আমাদের কোন বৈঠক হয় না,
তরুণ বালিকা আমি, দেখা হয় না,একেবারে স্তব্ধতার তলানীতে গিয়ে গুনগুন করি,সুলতানা বিবিয়ানা,
তখন কেউ নিঃশব্দে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে,
কেবল শরীর শরীর।
তারাদের মধ্যে থেকে আকাশ খসে পড়ে,
ঘেমে একাকার আব্বার মুখ,
রান্নাঘরে আম্মার নড়াচড়া 
চোখের সামনে তেমনই 
স্থির হয়ে গেছে।

 
মনে হত প্রাসাদ সুন্দরীদের শরীর থেকে সুখের ঘাম ঝরে পড়ে,সোনার অলংকার, 
আর হীরের পায়ের মলের বিচ্ছুরণ দিয়ে সব কেনা যায়,এমন কী শৈশবও,
সে বলেছিল,কিনেছি,
আমিও বলেছিলাম বিক্রি করে দিয়েছি অতীত যা ছিল পুরোনো সব ভস্ম হয়ে গেছে, 
কিচ্ছু আর মনে পড়ে না।
কিন্তু এক পা বাড়ালেই বিবিয়ানা ফাঁস হয়ে যায়,
সুলতানার ঘামে কেবই রোদনের অস্রুখন্ড,
কেবল সেই দূর মাঠের গুঞ্জন, আয়রে আমার পাগলা ঘোড়া,
ভুলে যাই শব্দ,আগেপড়ে হয় বাক্য
তারপর? 
পাখি প্রশ্ন করে দূরে চলে যায়।
সুলতানা বিবিয়ানা 
সাহেব বিবির বৈঠকখানা,
এর মধ্যে কোন দাগ নেই,
এ কেবলই বিশাল প্রাসাদের শূন্যে এসে ধাক্কা খায়।
আমার মনের খুব মনে পড়ছে তোমাকে।
 
মাঠের পাশে নিরন্তর দাঁড়িয়ে থাকা মনে পড়ছে।
যত তলাচ্ছি ভাবছি মুঠোয় মুঠোয় প্রাচুর্য ধরছি,
কিন্তু বাড়ানো পা অনিবার্য ছায়াও দেখতে পায় না।
আদতে পৃথিবী থেকে কিছুই হারায় না।
কেবল এক হাত থেকে অন্য হাতে চলে যাওয়া

নাসরীন জাহান : কথাসাহিত্যিক। কবিতাও লিখছেন কয়েকবছর থেকে। পুরস্কার পেয়েছেন ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪) (উড়ুক্কু উপন্যাসের জন্য)। আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৫) (পাগলাটে এক গাছ বুড়ো গল্পের জন্য),বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।   নাসরীন জাহান ১৯৬৪ সালে ৫ মার্চ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটে জন্মগ্রহণ করেন।  ব্যক্তিগত জীবনে নাসরীন জাহান কবি আশরাফ আহমেদের স্ত্রী। লেখালেখির সূত্রেই তার সাথে পরিচয় এবং সে থেকে প্রণয়। ১৯৮৩ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের এক মেয়ে। নাম অর্চি অতন্দ্রিলা।

news24bd.tv/ডিডি

এই রকম আরও টপিক