রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ |

পুরনো বোতলে নতুন মদ, নেশার স্বর্গরাজ্য (ভিডিও)

আশিকুর রহমান শ্রাবন

পুরনো বোতলে নতুন মদ, নেশার স্বর্গরাজ্য (ভিডিও)

সাজানো-গোছানো বড় হল রুম। রঙিন আলোয় কাছে না গেলে কারও চেহারা চেনা দুস্কর। চারিদিকে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া। হঠাৎ জিন্সের সঙ্গে টপস পরা এক তরুণী এসে ঢুকলেন। সোজা গিয়ে নরম সোফায় বসে পড়লেন একটি ঘেরা দেওয়া জায়গায়। সেখানে আগে থেকেই ছিল কয়েকজন। হাই-হ্যালো বলে পাইপটা নিলেন হাতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ধনী ঘরের মেয়েটি বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিতই আসেন রাজধানীর এই সিসা বারটিতে। ইয়াবাও পাওয়া যায় এখানে, তবে একটু গোপনে, বিশেষ কায়দায়।

মাদক এখানে নতুন কিছু নয়। তবে এর সর্বগ্রাসী থাবা যেন দিনকে দিন প্রশস্থ হচ্ছে। রাজধানীর ৫০০টির বেশি স্পটে প্রতিদিন চলছে শতকোটি টাকার মাদক বাণিজ্য। মাদক সম্রাট আর সম্রাজ্ঞীদের কোটি টাকার মুনাফা, বিলাসী জীবন। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাঝে মাঝে অভিযান সফল অথবা ব্যর্থ। প্রধান হোতারা থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কেউ আটক হলেও ক'দিন পরেই জামিনে মুক্ত অথবা খালাস।  এটিই বাংলাদেশের বর্তমান মাদক বাস্তবতা।

এ ব্যাপারে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাই জানিয়েছেন কেন এ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। তারা জানান, এই ব্যবসায় লাভের পরিমান অনেক বেশি। তাই সহজে অর্থ রোজগারে অনেকে এই ব্যবসায় নামে। আর ঝুঁকির বিষয়টা টাকা দিয়েই ম্যানেজ হয়ে যায়। এক নারী মাদক ব্যবসায়ী বলেন, মাঝে মধ্যে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু, পুলিশেরই কেউ একজন ফোন করে অভিযানের ব্যাপারে আগে জানিয়ে দেয়। তিনি বলেন, সব পুলিশ তো আর ভালো না। ১০ জনের মধ্যে একজন হলেও তো ঘুষ খায়। ওই একজনকেই মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে।

নিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন 'টিম আন্ডারকাভার' এর ৩০ তম পর্বে মাদকের বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। এবারের পর্বের নাম 'পুরনো বোতলে নতুন মদ, নেশার স্বর্গরাজ্য'।

ঢাকা মহানগর পুলিশ দপ্তরের এক তালিকায় দেখা গেছে ডিএমপির বিভাগ অনুযায়ী রমনায় ৫৩টি,  লালবাগে ৫৭টি, ওয়ারিতে ৭৭টি, মিরপুরে ৫৬টি, গুলশানে ২৫টি, উত্তরায় ৪০টি, মতিঝিলে ২২টি আর তেজগাঁওয়ে ২৫টি চিহ্নিত মাদকস্পট রয়েছে। 

চিহ্নিত মাদক আখড়া যেমন আছে, খাতা-কলমের হিসেবের বাইরে আছে আরও বেশি। মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকাটি  সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। হাত বাড়ালেই মেলে যে কোন ধরণের মাদক। রিকশাচালকের সাহায্য নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে এমন তথ্যের সত্যতাও মেলে। এ যেন অন্য এক পরিবেশ। নির্ধারিত 'ইশারা' দিতেই এগিয়ে আসে মাদকের দালাল। আলো-আঁধারিতেই চলে বিকিকিনি। 

বাঁশবাড়ি ছেড়ে টিম আন্ডারকাভার ছদ্মবেশে ছুটতে থাকে আরও মাদকস্পটের খোঁজে। হাতে রয়েছে কিছু এলাকার তালিকা। না, আগে থেকে পাওয়া তথ্য মোটেও ভুল নয়। পাওয়া যায় হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদকের সন্ধান। মাদকস্পটগুলোতে শুধু সেবনের সুযোগই নয়, আছে হোমডেলিভারির ব্যবস্থাও। ফোন করলেই বাড়িতে এসে দিয়ে যাচ্ছে মাদক। 

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে

মন্তব্য