সোমবার, ১ জুন, ২০২০ | আপডেট ৫৮ মিনিট আগে

স্টেট সিনেটেও ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের বিল পাশ

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক

স্টেট সিনেটেও ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের বিল পাশ

হিজাব, টুপি, টারবান, পায়জামা-পাঞ্জাবি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মস্থলে আইনসিদ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) এমন একটি বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে। উপস্থিত ৬০ সিনেটরের সকলেই ভোট দেন এ বিলে (এস৪০৩৭)। 

জানা যায়, গত মাসে অনুরূপ একটি বিল পাশ হয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলিতে। সেটি উত্থাপন করেছিলেন জ্যামাইকা নির্বাচনী এলাকার অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন। আর সিনেটে উত্থাপন করেন একই এলাকার স্টেট সিনেটর জন ল্যু। উভয় বিল যাবে স্টেট গভর্নরের স্বাক্ষরের জন্যে। তিনি স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হবে। 

আরও জানা যায়, এমন একটি বিল সর্বপ্রথম স্টেট পার্লামেন্টে উঠেছিল ২০১১ সালে। কিন্তু রিপাবলিকানদের আপত্তির মুখে তা কখনোই স্টেট সিনেটে পাশ হতে পারেনি। গত বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ডেমক্র্যাটরা।
 
স্টেট সিনেট লবিতে এই বিল নিয়ে ভোটাভুটির সময় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। তারা দেন-দরবারের মধ্য দিয়েই তা পাশ করাতে সক্ষম হন বলে এ সংবাদদাতাকে জানান কমিউনিটি লিডার মাজেদা এ উদ্দিন। 

কর্মস্থলে ধর্মীয় পোশাকের অবাধ ব্যবহারের রীতি চালুর জন্যে এমন বিধির পক্ষে দীর্ঘদিন থেকে সোচ্চার স্যাফেস্ট (সাইথ এশিয়ান ফান্ড ফর এডুকেশন, স্কলারশিপ এ্যান্ড ট্রেনিং) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাজেদা উদ্দিন নিউইয়র্ক রাজ্যের রাজধানী আলবেনী থেকে এ সংবাদদাতাকে আরও জানান, ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলার পর ধর্মীয় পোশাকের কারণে আমরা নানাভাবে নিগৃহিত হয়েছি। কর্মস্থলেই শুধু নয়, চলতি পথেও নানা ঘটনা ঘটেছে। অনেকের প্রাণ গেছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এমন একটি বিধির জন্যে সোচ্চার থাকা অপর সংগঠনের মধ্যে ছিল- বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ। এই গ্রুপের নেতা জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে অনেকেই ছিলেন পার্লামেন্ট ভবনে। 

স্টেট সিনেটর জন ল্যু বলেছেন, কর্মস্থলে পোশাকের কারণে বিমাতাসুলভ আচরণের ঘটনাকে কখনোই মেনে নেয়া উচিত নয়। যে দেশের সংবিধান ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের অধিকার সংহত করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ধর্মীয় কারণে হেনস্থা হবেন-এটি কল্পনারও অতীত। তবুও কিছু লোক ও গোষ্ঠীর কারণে এতদিন নিউইয়র্কেও ঘটেছে অনেক ঘটনা। আর নয়। এখন সকলকেই অবাধে সবকিছু ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হলো। 

জ্যাকসন হাইটস এলাকার সিনেটর জেসিকা র‌্যামোজ বলেন, আমরা কারা, কী পরছি, কীভাবে ধর্ম-কর্ম করছি, তা অন্যের বিদ্বেষের কারণ হতে পারে না। আর এসব কখনোই বিমাতাসূলভ আচরণের কারণ হতে পারে না। এই বিল সর্বসম্মতভাবে পাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক আগ্রহের ব্যাপারটাও স্পষ্ট হলো।


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল)

মন্তব্য