শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ০১ মিনিট আগে

‘নুসরাত ধোয়া তুলসী পাতা না’

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

‘নুসরাত ধোয়া তুলসী পাতা না’

ফেনীর সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ফেনীর সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম। বলেছেন, নুসরাত মেয়েটা ধোয়া তুলসী পাতা না। অতীতে তো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ঘটতেছে।

এ হত্যার বিচারের দাবিতে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলেও তিনি অনুমতি এ মন্তব্য করেন।

শনিবার তাহমিনা রুমি ও স্নিগ্ধা জাহান রিতা নামে ওই কলেজের দুই ছাত্রী ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ‘গায়ে আগুন দেওয়ার আগে তারা টয়লেটে লুকিয়ে ছিল’

স্ট্যাটাসে লিখেছেন, নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের ব্যানারে আমরা একটা মানববন্ধন করতে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমের কাছে শনিবার সকাল নয়টায় অনুমতির জন্য গিয়েছিলাম। আমরা কয়েকজন ম্যাডামের রুমে যাই। তারপর ম্যাডাম যা বললেন তা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমরা কেউই।

‘ম্যাডাম আমাদের বললেন নুসরাতকে তার স্যার বলেছিল পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেবে, তাই নুসরাত নিজ ইচ্ছায় স্যারের কাছে গিয়েছিল। অথচ এতদিন ধরে আমরা জেনে আসছি কলেজের পিয়নকে দিয়ে নুসরাতকে ডাকা হয়েছে। তবে কি আমরা এতদিন ভুল জানতাম? আমাদের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছে মিডিয়া? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছা হয় আমার। কে দেবে এসব প্রশ্নের উওর? কোথায় পাব এসবের উওর?

ম্যাডাম আরও বলেছেন, অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ঘটতেছে, কারণ বর্তমান মেয়েরা অনেক লোভী। নুসরাত মেয়েটা ধোয়া তুলসী পাতা না। মেয়েটার সঙ্গে যেটা হয়েছে তার জন্য মেয়েটাই দায়ী। এটার জন্য মানববন্ধন করতে আমি কখনও অনুমতি দেব না। তোমরা ক্লাসে যাও।

আরও পড়ুন: ফেনীর পর লালমনিরহাটেও কেরোসিন ঢেলে হত্যা

এদিকে এ অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম। বলেন, মেয়েদের এসব অভিযোগ সত্য নয়। কেন তারা এমন মিথ্যা কথা বলছে, আমি বুঝতে পারছি না। কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতে আমি শুধু বলেছি, এ বিষয়টি যেহেতু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখছেন- আমরা আরও কিছুদিন অপেক্ষা করি। এখনই মানববন্ধন করার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কে বা কারা মারধর করেছে এমন সংবাদ পেয়ে তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এনে ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে পুলিশের হাতে আটক সাতজন।

‘তোরা জানিস না, উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে?’

আরও পড়ুন: অধ্যক্ষ সিরাজের ঘনিষ্ঠরা উধাও

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য