বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ১৪ মিনিট আগে

কবুতর চুরির অভিযোগে ২ স্কুলছাত্রকে ন্যাড়া করে নির্যাতন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি 

কবুতর চুরির অভিযোগে ২ স্কুলছাত্রকে ন্যাড়া করে নির্যাতন

ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করা হয়। 

জানা যায়, নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় একই গ্রামের আবদুল ক্দ্দুুস হাওলাদারের ছেলে। 

তারা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা য়ায়, নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রোববার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো.সজিব হোসেন খান (১৪) ও রিফাত হোসেন জয় (১৪) নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম। 

পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় এবং তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করে। পরে চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধরও করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা করার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল)

মন্তব্য