মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৩৩ মিনিট আগে

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পাহাড়ের মানুষ

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পাহাড়ের মানুষ

অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাঙামাটির তিন উপজেলা। চাহিদার অধিক বিদ্যুৎ পেয়েও সংকট যেন কাটছে না। ঘন ঘন লোডশেডিং ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় সময় থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন। এছাড়া রয়েছে অসহনীয় লো-ভল্টেজ। এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলার বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে।

সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এখন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জনজীবন। গত তিন দিন ধরে টানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিদ্যুতের এমন দুর্দশা দ্রুত সমাধান করা না হলে আন্দোলনে নামবে বলে হুমকি দেন উপজেলাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ স্থাপনের পর দীর্ঘ ৫৫বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিহিন ছিল এ অঞ্চলের মানুষ। পরে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় রাঙামাটির বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায়। সেই থেকে বিদ্যুতের কারণে আধুনিকতার ছোয়া লাগতে শুরু করে উপজেলাগুলোতে। বরকল উপজেলার বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী গ্রাহক রয়েছে মাত্র আড়াই শতাধিক। এছাড়া জুরাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ও বিলাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ৫০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়
আনা হয়। কিন্তু তারমধ্যেও মিলছে না চাহিদা মতো বিদ্যুৎ। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন উপজেলাগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তি বেড়েছে। নানা সমস্যায় পড়েছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পড়া-লেখা ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

রাঙামাটির জুরাইছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনির্মল দেওয়ান বলেন অভিযোগ করে বলেন, টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চরম সমস্যায় পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ। অচল হতে বসেছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো।

বরকল উপজেলা বিদ্যুৎ গ্রাহক উন্নয়ন সমিতির আহবায়ক মো. আবু বক্কর ও বড় হরিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা বলেন, বরকল ও জুরাইছড়িতে এখনো পর্যন্ত কোনো লাইনম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই বিদ্যুৎ সংযোগে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে দেখার কেউ নেই। তাই বিদ্যুৎ ভোগান্তি এখন চরমে। এছাড়া বিলাইছড়ি জুরাইছড়ি ও বরকল দুর্গম উপজেলায় যে ১১কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনটি গ্রাহকদের চাহিদার চাইতে অপ্রতুল।

রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার জলোবিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান মজিদ জানান, কাপ্তাই লিচু বাগান ও চন্দ্রঘোনা এলাকায় ৩৩কেভি লাইনটির যান্ত্রিক ক্রটি হওয়ায় তিন উপজেলায় আপাতত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ চলছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

রাঙামাটি জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার বলেন, দুর্গম পাহাড়ি উপজেলাগুলোতে
যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কঠিন। নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। হ্রদে পানি কমে যাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ। তাই বিদ্যুতের যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিলেও শহর থেকে কোনো মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারে না। বিদ্যুৎ বিভাগের জনবলও সঙ্কট চরমে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

উপজেলাগুলোতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এ সমস্যা তেমন হবে না।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/মুমু/তৌহিদ)

মন্তব্য