বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৪৯ মিনিট আগে

মাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণ: জবানবন্দি দিলেন সাগর

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

মাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণ: জবানবন্দি দিলেন সাগর

নওগাঁ মান্দা উপজেলায় মাকে গলা কেটে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সামিউল ইসলাম ওরফে সাগর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (২) বিচারক সিরাজুল ইসলাম আসামি সাগরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন।

তিনি জানান, আদালতে আসামি জবানবন্দিতে যেসব তথ্য দিয়েছে তা মামলা তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি পুলিশের কাছে হত্যা ও ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে। তাই আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। জবানবন্দি শেষে সামিউল ইসলাম ওরফে সাগরকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে মান্দা থানা হাজত থেকে অভিযুক্ত সামিউলকে আদালতে নেওয়া হয় বুধবার দুপুর দুটার দিকে। কড়া প্রহড়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

‌‌মঙ্গলবার সামিউলকে আটক করে পুলিশ। রাতে তার বিরুদ্ধে মান্দা থানায় প্যানেল কোড ৩০২ (হত্যা) ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (৯) ১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত গৃহবধূ নাছিমা আক্তার সাথীর স্বামী এমদাদুল হক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নির্যাতনের স্বীকার তরুণীর বাবা। সামিউলকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাগর গৃহবধূ সাথীকে হত্যা ও সাথীর মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, ধর্ষণের শিকার তরুণীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে তার ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ওই তরুণী নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪-এর কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন। বিচারক বিকাশ চন্দ্র বর্ণনাগুলো রেকর্ড করেছেন। পরে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে মান্দার দ্বারিয়াপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল হকের বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূ নাছিমা আক্তার সাথীকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সামিউল ইসলাম ওরফে সাগর। এরপর সাথীর ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাকে আটক করে। আসামি সামিউল পাশের কুসম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের জান মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। সে নওগাঁ সরকারী কলেজে বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য