শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ৪২ মিনিট আগে

২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে শিক্ষক ধরা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে শিক্ষক ধরা

সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগে দুই শিক্ষকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। পরে শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীদের আপত্তিকর একাধিক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

অনেকের অভিযোগের বরাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আট বছর ধরে অংক ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। তার চাকরি জীবনে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্লাকমেইল করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করতে বাধ্য করেন। 

এছাড়া ছাত্রীদের কোচিং পড়নোর জন্য তার বাসা ও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। সেখানে তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ওই ফ্ল্যাটে তিনটি খাটছিল বলে জানায় ফ্ল্যাটের দারোয়ান। 

এলাকাবাসী জানায়, গত তিনদিন ধরে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড এলাকায় প্রচার হতে থাকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে গেলে আরিফুল ইসলাম তার মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবি গুলো মুছে ফেলে। পরে এলাকাবাসী তার মোবাইল উদ্ধার করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই স্কুলে হামলা চালায়। এসময় স্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই শিক্ষকের যৌন লালসার শিকার হয়। মেয়ে এখন নমব শ্রেণিতে পড়ছে। এখনও লম্পট শিক্ষকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আমার সন্তান। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। ২-৩ দিন পূর্বে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুব সমাজকে বলেছি।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট্ট একটি কিন্টার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলুফিকার। পরে ওই স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কেনে। ৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে অংক ও ইংরেজির শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম।

এলাকাবাসী আরও জানায়, এর আগে স্কুলের এক শিক্ষিকার সাথেও যৌনহয়রানি করে শিক্ষক আরিফুল। ওই শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে মুক্ত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানায়, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার মোবাইল থেকে ছাত্রীদর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীর সাথে ওই শিক্ষক ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে। যা প্রথামকিভাবে ওই শিক্ষক আমাদের কছে স্বীকার করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া স্কুল বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি খবর পেয়েছি ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ব্লাকমেইল করে মেয়ের মাকেও ধর্ষণ করেছে। 

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য