বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০২ মিনিট আগে

শিশু সায়মা ধর্ষণ: ‌‘ধর্ষক’ কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

শিশু সায়মা ধর্ষণ: ‌‘ধর্ষক’ কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার

রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে সাত বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে হারুন অর রশিদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ জুলাই) তাকে কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন ওয়ারী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ।

তিনি জানান, হারুন সায়মাদের বাড়ি যে ভবনে, সেটিরই আটতলার বাসিন্দা পারভেজের খালাতো ভাই। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। এক মাস ধরে হারুন আটতলার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। হারুন পারভেজের রঙের দোকানে কাজ করতেন। পরিবারসহ ছোট্ট সায়মা থাকত ওই ভবনের ষষ্ঠ তলায়।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, হারুনই ভবনের অন্য একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে নিয়ে সায়মাকে হত্যা করেছেন। পুলিশ বলছে, ফাঁকা ফ্ল্যাটটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। এ কারণে সেখানে কেউ বসবাস করছিল না।

‘তদন্তের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। হত্যাকারী একজনই’ জানান ওসি।

গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সায়মার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন সোহেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, বাহ্যিকভাবে শিশুটির গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ঠোঁটে কামড়ের চিহ্ন, শরীরে ক্ষত চিহ্ন, মুখে রক্ত এবং যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ আলামত আমরা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট হতে হাই ভেজেনালসপ’র জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সকল নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এসব প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশুটির মৃত্যু কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নবনির্মিত ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়তো সায়মা। তার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরে ব্যবসা করেন।

নিহত সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘মাগরিবের আজানের সময় আমি নামাজ আদায়ে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যার নাশতা কিনে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি সায়মা নেই। আমি, আমার স্ত্রীসহ সায়মাকে খুঁজতে শুরু করি। ছয়তলা ও আটতলায় খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবার আটতলায় খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরে তার লাশ পাওয়া যায়।’

এ ঘটনায় সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ভবন মালিকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: তিন মাসেই খুনির ফাঁসি চান সায়মার বাবা

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য