শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ৩৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে

তিন মাসেই খুনির ফাঁসি চান সায়মার বাবা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

তিন মাসেই খুনির ফাঁসি চান সায়মার বাবা

আমার মেয়েকে দু’ভাবে নির্যাতিত করা হলো। আমি সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আসামির ফাঁসি কার্যকর চাই।

দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এ দাবি জানান সায়মার বাবা আ. সালাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানহারা বাবা।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় মাকে ১০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয় শিশু সায়মা। এই যাওয়াই ছিল তার শেষ যাওয়া। সুযোগ বুঝে শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে যান প্রতিবেশী হারুন অর রশিদ। পরে রোববার (৭ জুলাই) সকালে কুমিল্লার তিতাসের ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হারুনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সায়মার বাবা আ. সালাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানহারা বাবা।

হতভাগা বাবা আ. সালাম বলেন, যাদের সন্তান আছে তারা এসব কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে আপনার সন্তানদের দূরে রাখবেন বিষয়টি ভেবে দেখবেন। আমি আমার মেয়েকে দেখে রাখতে পারিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মেয়েটা আমার স্ত্রীকে বলে ১০ মিনিটের জন্য বাইরে গেল। এরপর আমার মেয়েটা আর ফিরল না, তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হলো।

‘গত দু’দিন ধরে আমি একফোঁটা পানিও খেতে পারিনি। ঘরে গেলে মেয়ের কাপড়-চোপড়, ছবি দেখে আর ঠিক থাকতে পারি না। আমার পুরো পরিবারটা বিধ্বস্ত হয়ে গেল।’

চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, আজকের পর যেন ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে না যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

এর আগে শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নবনির্মিত ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়তো সায়মা। তার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরে ব্যবসা করেন।

নিহত সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘মাগরিবের আজানের সময় আমি নামাজ আদায়ে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যার নাশতা কিনে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি সায়মা নেই। আমি, আমার স্ত্রীসহ সায়মাকে খুঁজতে শুরু করি। ছয়তলা ও আটতলায় খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবার আটতলায় খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরে তার লাশ পাওয়া যায়।’

এ ঘটনায় সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ভবন মালিকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য