বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৩ ঘন্টা ০৭ মিনিট আগে

৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে, ১০ গ্রাম প্লাবিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি

৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে, ১০ গ্রাম প্লাবিত

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের সাউথখালী ইউনিয়নের ‘আশারআলো’ মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাঁধে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। শনিবার রাত থেকে বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গনে বাঁধের বিভিন্ন অংশের ৩শ মিটার বেড়িবাঁধ, বেশ কয়েটি বসতবাড়ি-দোকানপাট ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এই অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারটি লন্ডভন্ড করে দিয়ে শরণখোলা মারা যায় শত-শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এরপর সরা বিশ্বের কাছে ‘মৃত্যুপুরি’ পরিচিতি পাওয়া বাগেরহাটের শরণখোলার সর্বস্তরের মানুষ বলেশ্বর নদী শাসন করে টেকসই-উঁচু বেড়িবাঁধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। অব্যাহত এই আন্দোলনের মুখে সরকার ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ানে এই বেড়িবাঁধটি টেকসই ও উঁচু করে নির্মাণের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্পের কাজটি পায় চীনের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকল্প থেকে বলেশ্বর নদী শাসন বাদ দেওয়া হয়। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে শুরু হয় নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ। চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বেড়িবাঁধের চরম ঝঁকিপূর্ণ অংশে কাজ না করে কম ঝুকিপূর্ণ অংশে কাজ করতে থাকে। এই অবস্থায় বেড়িবাঁধের চরম ঝঁকিপূর্ণ অংশের ভাঙত চলতে থাকে।

গত ৪ মে রাতে সাইক্লোন ‘ফণী’র আঘাতে বেড়িবাঁটির বিভিন্ন অংশ বলেশ্বর নদীতে বিলিন হয়ে যায়। সর্বশেষ শনিবার রাত থেকে আকস্মিকভাবে বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গনে বাঁধের বিভিন্ন অংশের ৩ শ মিটার বেড়িবাঁধ, বেশ কয়েটি বসতবাড়ি-দোকানপাট ও ফসলী নদগর্ভে বিলিন হয়েছে। নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ওই এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রামের আমনের বীজতলা, মাছের খামার ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন করে বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকজন বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।

সাউথখালী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন আশার আলো মসজিদের দক্ষিণ পাশ থেকে পাউবোর ৩ শ মিটার বেড়িবাঁধসহ বেশ কয়েটি বসতবাড়ি-দোকানপাট ও ফসলী বলেশ্বর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখনো ভাঙ্গ অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি এখনশাউথখালী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের বাড়ীঘরে পানি ওঠানামা করছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত, আমনের বীজতলা ও মাছের খামার তলিয়ে গেছে।

বাগেরহাট পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী, নাহিদ-উদ- জামান বলেন, এখন জোয়ারের পানির উচ্চতা কম থাকায় ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোকালয়ে খুব বেশী পানি প্রবেশ করতে পারেনি। সোমবার সকাল থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রিংবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। রিংবাঁধ নির্মাণ শেষ হলে ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে আর পানি প্রবেশ করতে পারবে না। বলেশ্বর নদী শাসনের বিশ্বব্যাংকে কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
 
(নিউজ টোয়েন্টিফোর/করিম/তৌহিদ)

মন্তব্য