শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৭ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

‘ওসির মারপিটে’ হোটেল মালিকের চোখ জখম

মাদরীপুর প্রতিনিধি

‘ওসির মারপিটে’ হোটেল মালিকের চোখ জখম

মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চোখ জখম করার অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার ওই হোটেল মালিক বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হোটেল মালিকের দাবি, শুধু নির্যাতনই নয়, একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারও করেছেন ওসি। পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতারা।

নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক ও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের আবাসিক সুমন হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাতে থাকতে আসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ছালাম পেদা ও তার শালিকা। ঘটনাটি জেনে ওই রাতেই হোটেল তল্লাশি করতে আসেন মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি দুজনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এ ঘটনা নিয়ে হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ।

হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, ‘পরের দিন সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেয়। তিনি এ সময় মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকে। ওসির হাতের আঘাতে আমার চোখের ভেতরে রক্ত জমাট হয়ে যায়। এরপর ওসি দম্পতি পরিচয় দানকারী আমার হোটেলের বোর্ডার সালাম পেদাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি সাজানো মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। বিজ্ঞ আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে চোখের আঘাত
গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।’

তিনি আরো জানান, ‘ওসি মাদারীপুর সদর থানায় গত ১৭ জুলাই যোগদানের পর দুই বার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপর ক্ষেপে আছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত বিচার দাবি জানাচ্ছি।’

চোখের আঘাতের ব্যাপারে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবির হোসেন জানান, ‘চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে বেশ আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।’

অন্যদিকে সালাম পেদার সঙ্গে অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখছে আমি টিপ সই দিয়েছি।

‘আমি মামলা করতে রাজি না। আর হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয়ে আমাদের কাছে টাকা দাবি করে।’

নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, ‘আমার সঙ্গে তার (হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সি) দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি অভিযোগ করায় মামলা আমলে নেওয়া হয়েছে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, ‘নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/বেলাল/তৌহিদ)

মন্তব্য