মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৫ মিনিট আগে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরব জাপান এবং ইউরোপের অনেক দেশ

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরব জাপান এবং ইউরোপের অনেক দেশ

‘শুধু অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা নয়, রাজনৈতিক সমর্থনও দরকার রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই সমাধানে। রাশিয়া এবং গণচীন যাতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক অর্থে সোচ্চার হয়, সে ব্যাপারেও মার্কিন প্রশাসনকে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে’-এমন অনুরোধ মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের প্রভাবশালী ৫ কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৭ জুলাই বুধবার ইউএস সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর (রিপাবলিকান) জেমস ই রীস এবং প্রভাবশালী সদস্য সিনেটর (ডেমক্র্যাট) বব মেনেন্ডেজ, প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) ইলিয়ট এ্যাঙ্গেল, এশিয়া সম্পর্কিত সাব কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) বব শারমেন এবং কংগ্রেসে বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম বন্ধু কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এর সাথে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন ড. এ কে এ মোমেন।

বৈঠকের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে মন্ত্রীর হোটেল লবিতে এ সংবাদদাতাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপরোক্ত তথ্য জানিয়ে আরো বলেন,
‘মিয়ানমার প্রশাসন একটি জাতিগোষ্ঠিকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করেছে এবং গণহত্যার সাথে নিজেদের জড়িত করেছে। এতদসত্বেও
যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রেখেছে।

‌‌‘অপরদিকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।’ ‘আমি তাদের আরো জানিয়েছি যে, মিয়ানমারের সমস্ত ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে সিঙ্গাপুর থেকে। জাপান এবং ইউরোপের অনেক দেশই মিয়ানমারের গণহত্যার নিরব সমর্থক। এরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু। এর আগে ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার প্রশ্নে তাদের একইভাবে সোচ্চার হওয়া জরুরি।’

এধরনের আরো কিছু ইস্যুতে ওদের সাথে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে’-বলেন ড. মোমেন।

বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে সিনেটর- কংগ্রেসম্যানরা মন্তব্য করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাটাগরিক্যালি তাদের জানিয়েছেন যে, ‘৪১ হাজার পোলিং বুথের মধ্যে মাত্র ২১টিতে অনিয়ম, সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেগুলোর নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।’ ড. মোমেন এ সময় পাল্টা তথ্য উপস্থাপন করে কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের জানিয়েছেন, ‘২০০৮ এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও নানা কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিদেশীদের হস্তক্ষেপের কথাও আজ সর্বজনবিদিত।’

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আলোকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন রাজনীতিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর পুলিশের বুলেটে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। কারাগারেও সহস্রাধিক আমেরিকানের মৃত্যু হচ্ছে। এসবের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। মানবাধিকারের প্রতিটি ইনডেক্সেই বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটেছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন ডিসি সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্সের কথা অবহিত করেছেন মার্কিন জনপ্রতিনিধিগণকে।

এছাড়া, রোহিঙ্গা মুসলমানেরা যাতে খুব দ্রুত সসম্মানে নিজ নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারে সে জন্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। সিনেট ও কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন খুব দ্রুত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের।

এ সময় অবশ্য তারা ড. মোমেনের কাছে জানতে চান যে, গণচীনের নেতাদের সাথে শেখ হাসিনার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে। তারা কী বলেছেন। ড. মোমেন জানান যে, গণচীনের নেতারাও আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই মিয়ানমার সমস্যায় তারা কার্যকর চেষ্টা চালাবেন।

নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে-সে তথ্যও সবিস্তারে উপস্থাপন করেন সিনেটর-কংগ্রেসম্যানদের কাছে।
 
বৈঠকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য