বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ১৪ মিনিট আগে

স্যারের যৌন হেনস্তার ভিডিও করল কিশোরী

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

স্যারের যৌন হেনস্তার ভিডিও করল কিশোরী

‌‘লজ্জায়, অপমানে, ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখত মেয়েটি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় এক দিন নিজেই ঠিক করে ফেলে, সব ফাঁস করে দেবে। সেই মতোই কোচের দুষ্কর্মের ভিডিও মোবাইলবন্দি করেন তিনি। আর যথারীতি ফাঁস করে দেন।’

ভারতের গোয়ার সাঁতার শিখতে গিয়ে প্রধান কোচের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়া কিশোরীর কাহিনী এটি। অভিযুক্ত কোচের নাম সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

ওই কিশোরী সাঁতারুর বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকার জানায়, দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই কিশোরী সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর নিজের কোচের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলে জাতীয় পদক জেতা পশ্চিমবঙ্গের এই সাঁতারু।

এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর শুক্রবার সকালেই টুইট করে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু। 

অভিযুক্ত সাঁতার কোচের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। 

এদিন দুপুরে ওই কিশোরী সাঁতারুর কাছে ফোন আসে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর দপ্তর থেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে ওই কিশোরী বলে, ‘ক্রীড়ামন্ত্রীর সচিব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমাকে অনেকটা সাহস জুগিয়েছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী গোটা বিষয়টা দেখছেন বলে আমাকে জানান ওঁর সেক্রেটারি। আমার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।’
এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর ভাঙা গলায় ভেসে এল, ‘সব কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেল!’

কিশোরী বলেন, কোচের ডাকে সাড়া দিয়ে চলতি বছরের মার্চে সপরিবারে গোয়ায় যান তারা। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই যৌন হেনস্তা শুরু। দীর্ঘ ছ’মাস নানা বাহানায় কোচ সুরজিৎ জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ওই কিশোরী সাঁতারুর যৌন হেনস্তা করতেন বলে অভিযোগ। লজ্জায়, অপমানে, ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখত মেয়েটি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় এক দিন নিজেই ঠিক করে ফেলে, সব ফাঁস করে দেবে। সেই মতোই কোচের দুষ্কর্মের ভিডিও মোবাইলবন্দি করেন তিনি।

‘গোয়া যাওয়ার পর থেকেই স্যার আমার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করতেন। ব্ল্যাকমেল করতেন। আমি আর মানসিকভাবে নিতে পারছিলাম না। তখনই ঠিক করি, কিছু একটা করতে হবে। সেই মতো মোবাইলে ওই ভিডিও রেকর্ড করি।’

জাতীয় প্রতিযোগিতা থেকে পদক জেতা বাংলার ওই কিশোরী সাঁতারু গোয়া থেকে পালিয়ে আসার কাহিনীও এ দিন শোনান। তার কথায়, ‘স্যার তখন গোয়ায় ছিলেন না। সিনিয়র ন্যাশনাল মিটের জন্য ভোপালে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই আমরা পালিয়ে আসি রিষড়ার বাড়িতে। স্যার ওখানে থাকলে আমরা হয়তো ফিরতেই পারতাম না। আরও বড় ক্ষতি হয়ে যেত আমার।’

ওই কিশোরীর বলে, ‘গত পাঁচ বছর ধরে স্যারের পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। খুবই ভালো ছিল। স্যারের ছেলেও খুব ভালো সাঁতারু।’

একটু থেমে, ‘কোনও দিন ভাবিনি, স্যার আমার সঙ্গে এ রকম...!’ বলতেই কথা আটকে যায় তার।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য