সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ভাঙলো হাত, ক্লোজড হলো তিন পুলিশ

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ভাঙলো হাত, ক্লোজড হলো তিন পুলিশ

সড়ক দুর্ঘটনায় হাত ভাঙলো মন্টু সানার। অথচ সেই হাত ভাঙার দায় পড়ল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার তিন পুলিশ সদস্যের উপর। ইতোমধ্যে মন্টু সানাকে মারপিট করে হাত ভেঙ্গে দেওয়া ও মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে এই অভিযোগে প্রত্যাহার হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া মাদরাসা মোড় এলাকায় পহেলা সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অভিযান চালায় পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন- পাটকেলঘাটা থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন, এএসআই সুজিত বিশ্বাস ও থানার ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন।

অভিযানকালে মাদক পাচার হচ্ছে এমন সন্দেহে অনেকের সঙ্গে সরুলিয়া এলাকার মন্টু সানা ও প্রকাশ ঘোষের দেহ তল্লাশী চালায় পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়েই কাল্পনিক অভিযোগে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড হয়েছেন এই তিন
পুলিশ সদস্য।

সুরুলিয়া গ্রামের কেরামত সানার ছেলে মন্টু সানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত পহেলা সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে পাটকেলঘাটা বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় সরুলিয়া মাদরাসা মোড়ে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ আমিসহ সঙ্গে থাকা প্রকাশ ঘোষকে আটক করে দেহ তল্লাশী করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এখন বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি,
পুলিশ আমাকে আটক করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া মারপিট করে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা আমার দেহ তল্লাশী করেই ছেড়ে দেয়। তারা আমাকে আদৌ আটকে রাখেনি। এছাড়া মারপিট করে হাত ভেঙে দিয়েছে সেটিও কাল্পনিক। ওই রাতের পরদিন বিকেলের দিকে আমি কলারোয়া থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ধানদিয়া এলাকায় একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। ওই দুর্ঘটনায় আমার ডান হাতে চোট লাগে। পুলিশ সদস্যরা আমাকে মারপিট করে হাত ভেঙে দিয়েছে এটা সঠিক নয়।

মন্টু সানাকে পুলিশ তল্লাশীকালে সঙ্গে ছিলেন সরুলিয়া গ্রামের মৃত. বৈদ্য ঘোষের ছেলে প্রকাশ ঘোষ বলেন, যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তা আদৌ সঠিক নয়। কোনো মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কোনো মোটা অংকের টাকার লেনদেনের ঘটনাও ঘটেনি।

ঘটনার বিষয়ে সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, সরুলিয়া মাদরাসা মোড় এলাকায় পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের তিন সদস্য কাউকে আটক করে টাকা না দেওয়ায় মারপিট করে হাত ভেঙে দিয়েছে এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই।

পাটকেলঘাটার স্থানীয় অনেকেই জানান, পাটকেলঘাটা থানায় এক বছর আগে যোগদানের পর থেকে এসআই ফরিদ হোসেন বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন। একই সঙ্গে মাদক উদ্ধারসহ মাদক  কারবারিদের গ্রেপ্তারও করেছেন তিনি। এসব কারণে এলাকার মাদকসেবী ও মাদক কারবারিরা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

একটি কাল্পনিক গুজব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে পাটকেলঘাটা থানা থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, ঘটনার দিন আমি কুষ্টিয়াতে ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, তালা সার্কেলের সহাকারি পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য