শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

বেরোবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক

বেরোবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে বুধবার রাতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল আজিম ফাইনের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ হয়। ওই দিন রাতে বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবাসে  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়ার কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ফাইন গ্রুপের সমর্থকরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ফাইনকে প্রধান আসামি করে তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগ সভাপতি তার কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করার অভিযোগ তোলেন। পুলিশ ওই মামলায় ছাত্রলীগ নেতা ফাইনসহ তার তিন সহকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়। এরপর বেশ কিছুদিন কারাগারে আটক থাকার পর বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়ে রাত ৮টার দিকে ক্যাম্পাসে তার সমর্থকসহ আসেন ফাইন। এসময় তুষার কিবরিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়। 

সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দুই পক্ষই ছোরা, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে। পরে ফাইন গ্রুপের কর্মীরা টিকতে না পেরে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে রাত পৌনে ১০টায় ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুষার কিবরিয়া অভিযোগ করেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফাইন, যার কোনও ছাত্রত্ব নেই, তার নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণে রাতের মধ্যেই ফাইনসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই। না হলে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করাসহ সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে।’

তবে ফয়সাল আজিম ফাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের ওপর তুষার কিবরিয়ার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আতিউর রহমান বলেন, ‘একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য