সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে

রোহিঙ্গাদের এনআইডি করে দিয়ে জয়নালের কোটি টাকার বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহ করা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকেই। এক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি ঘটেছে তিনজনের হাত ধরে। যারা বিভিন্ন সময় জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

তারা হলো- চট্টগ্রাম নগরের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫), নির্বাচন কমিশনের সাবেক দুই কর্মচারী সাগর (৩৭)ও সত্যসুন্দর দে (৩৮)।

এদের মধ্যে জয়নাল চট্টগ্রামে বসে থানা নির্বাচন অফিসের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির প্রাথমিক কাজ করত।

বর্তমানে বিআরটিএতে কর্মরত সাগর এক সময় এনআইডি সার্ভারে আপলোড করত। সেই সুবাদে দেশের সব উপজেলার এনআইডি আপলোডের পাসওয়ার্ড তার কাছে আছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া এনআইডি সার্ভারে অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে নির্বাচন কমিশন থেকে চাকরিচ্যুত সত্যসুন্দর এখনো বিভিন্ন উপজেলায় এনআইডির ডাটা এন্ট্রির কাজ করে চলেছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বানাতে এ চক্রটি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিত। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের এনআইডির জন্য চট্টগ্রামে থেকে ছবি, আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সরবরাহ করত। এক্ষেত্রে সে ছুটির দিনে অফিস থেকে নিয়ে আসা ওয়েবক্যাম, ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার যন্ত্র, স্ক্যানার, সিগনেচার প্যাড বাসায় ব্যবহার করত।

এছাড়া নিজের কাছে থাকা উপজেলার এনআইডি আপলোডের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের সেন্ট্রাল সার্ভারে ডাটা ইনপুট দিত সাগর। একই কায়দায় জয়নালের সরবরাহ করা তথ্যে নির্বাচন কমিশনের সেন্ট্রাল সার্ভারে প্রবেশ করে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি হতো বলেন (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান  জানান, হাটহাজারী থেকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে আসা রোহিঙ্গা নারী লাকি আক্তারকে শনাক্তের পর জানা যায়, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত আছে। পরে ১১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা অভিযানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সাতজনকে আটক করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ডাবলমুরিং থানার অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার সহায়তায় বিজয় দাস ও তার বোন সীমা দাসকেও আটক করা হয়। এ সময় জয়নাল আবেদীনের হেফাজতে থাকা নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। ওই ল্যাপটপে আরও ৫১ জন রোহিঙ্গার তথ্য পাওয়া গেছে।


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল)

মন্তব্য