শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৪ মিনিট আগে

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা। ফরিদপুরের জাকের মঞ্জিল স্পিনিং মিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সদরপুরের উপজেলা প্রশাসন নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইনকে এ বিষয় সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা প্রশাসন জানায়, শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

জানা যায়, ফরিদপুর স্পিনিং মিল অভ্যন্তরে হেলিপ্যাড তৈরির ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বড় ভাইজান হিসেবে পরিচিত আটরশী হুজুরের বড় সন্তান মাহফুজুল হকের আম মোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) বলে জনৈক শহিদুল ইসলাম শাহিন বাদি হয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসলাম হকের আদালতে একটি মামলা করেন।

ওই মামলার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার পর থেকে ফরিদপুর স্পিনিং মিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, গত সপ্তাহে ফরিদপুর স্পিনিং মিলে আটরশির পীরের মোঝো সন্তান ও জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলের অনুসারীরা গত সোমবার একটি হেলিপ্যাড তৈরি করতে যায়। এ সময় সেখানে আটরশি হুজুরের বড় ছেলে মাহফুজুল হক মোজাদ্দেদীর নাম ভাঙ্গিয়ে একটি পক্ষ বাঁধা দেন বলে জাকের পার্টির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এনিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

হুজুরের দুই সন্তানের মধ্যে মিয়া ভাইজানের অনুসারীরা বর্তমানে জাকের মঞ্জিলের কর্মী গ্রুপ আর মেঝো সন্তান যিনি মেঝো ভাইজান হিসেবে পরিচিত এবং জাকের পার্টির চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করছেন তার অনুসারীরা জাকের পার্টির ব্যানারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। কর্মী গ্রুপ ও জাকের পার্টি এখন একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতেই উত্তেজনা।

গত কয়েকদিন যাবত এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। এরই মাঝে আজ শুক্রবার মোস্তফা আমীর ফয়সলের আটরশীতে আসার কর্মসূচী জানানো হয়। আর মেঝো ভাইজানের এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন সূচক ব্যানার টাঙানো হয়। তবে তিনি যেনো তার দলবল তথা বহর নিয়ে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে প্রবেশ না করেন সেজন্য তাকে জানানো হয়।

ফরিদপুর স্পিনিং মিল গেটে গিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মোস্তফা আমীর ফয়সলের স্ত্রী শাহিনা ফয়সল প্রায় ৩০টি মাইক্রোবাস যোগে ফরিদপুর স্পিনিং মিলে প্রবেশ করেছেন।

জাকের পার্টির যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার মাহবুবুর রহমান জানান, সিপিএইচডি নামে একটি আয়ুর্বেদিক কোম্পানীর পরিদর্শন করতে মেঝো ভাইজানের আসার কথা। তবে তিনি এখনো আসেননি। মেঝো ভাবিজান আসবেন। তবে মেঝো ভাইজানের এখনো আসার কথা রয়েছে বলে মাহবুবুর রহমান জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মিয়া ভাইজান হিসেবে পরিচিত মাহফুজুল হক ঢাকা থেকে সড়ক পথে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে এসে পৌছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পশ্চিম দিকের মূল সড়কের আশেপাশে কর্মী গ্রুপের লোকেরা অবস্থান নিয়েছেন। তাদের সাথে সেখানে প্রচুর সংখ্যক পুলিশও মোতায়ন রয়েছে।

জাকের মঞ্জিলে প্রবেশের কালে সন্দেহজনক কোন গাড়ি কিংবা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে মিল মাঠে জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্টের কয়েক হাজার কর্মী মেঝভাইজান অভিনন্দন জানানোর জন্য জড়ো হয়েছন।  

ফরিদপুর জেলা জাকের পার্টির সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান যাদু মিয়া বলেন, পীর কেবলাজান হুজুরের মেঝছেলে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী সাহেব আটরশি দরবার শরীফে আসবেন বলে পীর কেবলাজান হুজুরের বড় ছেলে মাহফুজুল হক মোজাদ্দেদী সাহেবের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি পক্ষ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

যেটা মিয়া ভাইজান মুজাদ্দেদী সাহেব জানেন না। এমনকি তারা পীর কেবলাজানের পাগল মুরীদদেরকে সহিংসতার দিকে ঢেলে দিচ্ছেন। সন্ত্রাসীরা দরবার শরীফকে জিম্মি করে রেখেছেন। আটরশির অধিকাংশ মুরীদ সন্ত্রাসীদের আতংকে দরবারে আসছেন না বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, আপন মুর্শিদের দরবারে প্রবেশ করতে জাকের পার্টির কর্মীদের সন্ত্রাসীরা বাধা দিক সেটা আমরা চাই না।    

সদরপুর থানার অফিসার ইন চার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান বলেন, এটি আসলে আম জনতার জন্য প্রয়োগকৃত কোন ১৪৪ ধারা নয়। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে সেখানে এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয়েছে বিবাদমান পক্ষদের জন্য। উভয় পক্ষকে বলেছি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূরবী গোলদার ১৪৪ ধারা জারির সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে উভয় পক্ষকেই শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে।


(নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল)

মন্তব্য