মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৪ ঘন্টা ০৩ মিনিট আগে

অস্ত্র ও মদে ‌‌‌‘মেতেছেন’ হুইপপুত্র

অনলাইন ডেস্ক

অস্ত্র ও মদে ‌‌‌‘মেতেছেন’ হুইপপুত্র

অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী ওরফে শারুন চৌধুরী।

আতঙ্ক ছড়িয়ে অন্যদের ভয় দেখিয়ে দাপুটে অবস্থান তৈরি করতেই হুইপপুত্রের এমন কাজ বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এ ছাড়া নিজের সামনে দামি মদের বোতল ছড়িয়ে রেখে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছেন নিজেই।

কারণ, গত কয়েক বছর ধরে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করছেন শারুন চৌধুরী। প্রায়ই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে ধমকাধমকি করছেন। হুইপ শামসুল হকের বিরুদ্ধে জুয়ার ১৮০ কোটি টাকা আয়ের অভিযোগ তোলা পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্ত হওয়ার খবরও দাম্ভিকতার সঙ্গে ছড়াতে দেখা গেছে  তাকে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরীকে হুমকি দিয়ে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন আগেই। এ ঘটনা শুধু চট্টগ্রামেই নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গতকাল ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন হুইপ শামসুল হকের কুশপুত্তলিকা নিক্ষেপ করেছে ডাস্টবিনে।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক উপকমিটির সদস্য শারুন চৌধুরী সামরিক মহড়ার মতোই একে-৪৭ রাইফেলসদৃশ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণ করছেন। বিকট শব্দে পরপর গুলিবর্ষণের পর সেই রাইফেল থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঠিক তখনই ভিডিও ক্যামেরার দিকে দম্ভ নিয়ে তাকান শারুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও লিঙ্ক ঘিরে তির্যক মন্তব্য আসছে একের পর এক।

অনেকের মন্তব্য- ‘যুদ্ধক্ষেত্রের মহড়ার মতো ভিডিও ফুটেজই প্রমাণ করে এ সমাজে কতটা লাগামহীন এই হুইপপুত্র!’

কেউ বলছেন, ‘অস্ত্র চালানো দেখে মনে হচ্ছে, শারুন খুব প্রশিক্ষিত। কারণ এ ধরনের অস্ত্র ফায়ারিংয়ের সময় শরীর কন্ট্রোল খুবই কষ্টসাধ্য। অথচ তিনি ধারাবাহিকভাবে ফায়ার করে চলেছেন।’ 

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, এটি শুধু একজন উচ্ছন্নে যাওয়া যুবকের রূপ নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকেও মাঠপর্যায়ে ছিন্নভিন্ন করছে এই চেহারা।

প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হুইপ শামসুল হক। এ ঘটনা ঘিরেই তার পুত্র শারুনের বিরুদ্ধে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা দিদারুল আলম চৌধুরীকে টেলিফোনে অশ্লীল বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেন।

বাবার বয়সী দিদারুল আলম চৌধুরীকে শারুন বলেন, ‘গালবাজি যেখানে-সেখানে করবি রাস্তাঘাটে চড় মেরে মুখের দাঁত সবগুলো ফেলে দেব। বেআদব কোথাকার।’ এ ছাড়া শারুন বেশ কিছু গালাগালও করেন দিদারুল আলম চৌধুরীকে। মোবাইল ফোনের সেই আলাপের অডিও ভাইরাল হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই এই ভিডিওটি ভাইরাল হলো। এর ফলে মাঠপর্যায়ের অনেক আওয়ামী লীগ নেতাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।

অবশ্য ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন গণমাধ্যমে বলেন, ‘দিদারুল আলম চৌধুরী নিজের উসকানিমূলক অশ্লীল কথাগুলো কেটে ফেলে দিয়ে বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে শুধু আমার রাগান্বিত বক্তব্যগুলো প্রচার করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

কিন্তু শারুনের এ বক্তব্যও যে মিথ্যা তা জানিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন দিদারুল আলম চৌধুরী।

এদিক ঘটে যাওয়া এসব ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন হুইপ শামসুল হক চৌধুরী।

তার দাবি, তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র বেশিদিন টিকবে না। চট্টগ্রাম শাহ আমানত (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী বলেন, স্থানীয়রাই জানেন আমি কোনো সময় জাতীয় পার্টি করেছিলাম কিনা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব খোঁজখবর নিয়ে জেনেশোনেই আমাকে হ্যাটট্রিক এমপি হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য